পরিচারিকা ‘কালাজাদু’ করতেন! এই সন্দেহে ব্যাট ও ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে খুন করলেন খোদ চিকিৎসক!

দেশের রাজধানী দিল্লির এক অভিজাত এলাকায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। দিল্লির মাউন্ট কৈলাশ এলাকায় ৪৫ বছর বয়সী পরিচারিকা মীনাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে মণীশ গুপ্ত নামের এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে police। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির ছাদ থেকে ওই পরিচারিকার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই ঘটনার ভয়াবহতা সামনে আসে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন মৃতদেহের পাশেই চুপচাপ বসে ছিলেন অভিযুক্ত চিকিৎসক।
খুনের কথা স্বীকার ও নৃশংসতার বিবরণ
পুলিশি জেরার মুখে অভিযুক্ত চিকিৎসক মণীশ গুপ্ত নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ সূত্রে এই হত্যাকাণ্ডের যে ভয়ঙ্কর বিবরণ সামনে এসেছে তা নিচে দেওয়া হলো:
- ব্যাট দিয়ে আঘাত: অভিযুক্ত চিকিৎসক জানিয়েছেন, বচসার একপর্যায়ে তিনি প্রথমে একটি ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পরিচারিকা মীনাকে সজোরে আঘাত করেন।
- ছুরি দিয়ে হামলা: ব্যাট দিয়ে আঘাত করার পর মীনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে, নৃশংসতার এখানেই শেষ হয়নি। এরপর একটি ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর ওপর উপর্যুপরি হামলা চালানো হয়, যার জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই মহিলার।
খুনের নেপথ্যে ‘কালাজাদু’র অদ্ভুত দাবি
চিকিৎসকের মতো একটি উচ্চশিক্ষিত পেশায় যুক্ত থাকা সত্ত্বেও, এই খুনের পেছনে অভিযুক্ত যে কারণ দর্শিয়েছেন তা শুনে তাজ্জব বনে গিয়েছেন খোদ তদন্তকারী আধিকারিকরাও। ধৃত চিকিৎসকের দাবি, পরিচারিকা মীনা নাকি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাড়িতে ‘কালাজাদু’ বা কালো জাদু করছিলেন। এই অন্ধবিশ্বাস ও সন্দেহের বশবর্তী হয়েই তিনি পরিচারিকাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার এই ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত চিকিৎসককে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পেছনে অন্য কোনও পারিবারিক বা আর্থিক বিবাদ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
