পরিবার পরিকল্পনা কি বাধ্যতামূলক হচ্ছে বঙ্গে, শুভেন্দুর কাছে বড় আর্জি শমীকের – এবেলা

পরিবার পরিকল্পনা কি বাধ্যতামূলক হচ্ছে বঙ্গে, শুভেন্দুর কাছে বড় আর্জি শমীকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধাননগরে একটি স্বাস্থ্য কর্মসূচির মঞ্চ থেকে রাজ্যের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে আইন বা বিশেষ সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা বাধ্যতামূলক করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সরাসরি আবেদনও জানান।

শনিবার বিধাননগর হাসপাতালে কেন্দ্রের সহায়তায় সমগ্র রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সার্ভাইকাল ক্যানসারের টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের অতীত ও বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতির তুলনা টেনে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই বার্তা দেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির অধীনে প্রাথমিক দফায় বাংলার ২৩৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৭ লক্ষেরও বেশি কিশোরীকে এই প্রতিষেধক দেওয়া হবে।

ধর্মান্ধতার প্রচার ও অতীত অধ্যায়ের স্মরণ

বক্তব্য রাখতে গিয়ে ১৯৯০ সালের ৩০ মে বাম আমলের নৃশংস ‘বানতলাকাণ্ডে’ নিহত স্বাস্থ্য আধিকারিক অনিতা দেওয়ানের স্মৃতি উসকে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটা সময় নির্দিষ্ট কিছু ধর্মান্ধ প্রচারের কারণে পোলিও প্রতিষেধক দিতে গেলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হতো, যার ফলে সমাজ থেকে সমস্ত রোগ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সুস্থ সমাজ গঠনে পরিবার পরিকল্পনাকে বাধ্যতামূলক করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

সামাজিক বিকাশ ও প্রশাসনিক সংস্কারের বার্তা

বিজেপির রাজ্য সভাপতির মতে, সরকারি উদ্যোগে বিশেষ ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট’ তৈরি করে জন্মনিয়ন্ত্রণে গতি আনলে একদিকে যেমন জমির ওপর মানুষের অতিরিক্ত চাপ কমবে, অন্যদিকে মহিলাদের শিক্ষাগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশ সুনিশ্চিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ করবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। একই সঙ্গে রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে চিকিৎসকদের বদলির সুপারিশ আসার দিন শেষ, নতুন সরকার সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজ্যের ১০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *