পরীক্ষার খাতায় ছাত্রের অদ্ভুত আর্জি, বিয়ে বাঁচাতে শিক্ষকের কাছে পাস হওয়ার আকুতি!

পরীক্ষার খাতায় ছাত্রের অদ্ভুত আর্জি, বিয়ে বাঁচাতে শিক্ষকের কাছে পাস হওয়ার আকুতি!

পরীক্ষার খাতায় উত্তর নেই, বদলে সিনেমার গান ও আবেগী আর্জি: বিপাকে বিহারের টিএমবিইউ অধ্যাপকগণ

বিহারের ভাগলপুরের তিলকামাঝি মাঝী ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয় (টিএমবিইউ)-এর পার্ট ওয়ান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে গিয়ে রীতিমতো হতভম্ব শিক্ষকরা। পাঠ্য বিষয়ের সঠিক উত্তরের পরিবর্তে পরীক্ষার খাতার পাতাজুড়ে উঠে এসেছে সিনেমার গান, গজল কিংবা ব্যক্তিগত আবেগের নানা আজব দাবি। এই ঘটনা এখন কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেই সীমাবদ্ধ নেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার ঝড় তুলেছে।

খাতায় আবেগের বিষ্ফোরণ ও অদ্ভুত আবদার

মূল্যায়নের সময় শিক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন, রসায়ন বা ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উত্তরপত্রে শিক্ষার্থীরা উত্তরের বদলে নিজেদের ব্যক্তিগত সমস্যার ফিরিস্তি তুলে ধরছে। টিএনবি কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. রাজীব সিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, এক শিক্ষার্থী তার উত্তরপত্রে লিখেছে যে, তার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে। যদি সে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়, তবে সেই বিয়ে ভেঙে যাবে। মানবিকতার খাতিরে তাকে যেন পাস করিয়ে দেওয়া হয়, এমন আজব আবদার করা হয়েছে খাতার পাতায়। আবার অনেকে মোহাম্মদ রফির কালজয়ী গান ‘তেরে ঘর কে সামনে এক ঘর বানাউঙ্গা’ কিংবা বিভিন্ন গজল লিখে খাতার পৃষ্ঠা ভরে রাখছে।

শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ

বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাঠ্যবই সংক্রান্ত সঠিক উত্তর লিখছে। বাকিদের বিশাল একটি অংশ উত্তরপত্রের সঙ্গে প্রশ্ন সংগতিহীন গালগল্প বা গান লিখে পৃষ্ঠা পূর্ণ করছে। এমনকি ইংরেজি পরীক্ষার খাতায় হিন্দি ভাষায় গান লিখে রাখার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিক্ষকদের মতে, অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনার দেখা মিলত, কিন্তু বর্তমান সময়ে এর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি দুঃসংবাদ।

প্রস্তুতির অভাব নাকি শর্টকাটে পাসের প্রবণতা?

শিক্ষাবিদদের মতে, এই ধরনের ঘটনা কেবল প্রস্তুতির অভাব বা পড়াশোনার গাফিলতি নয়; এটি অনেকটা ‘মানসিক ব্ল্যাকমেইল’-এর পর্যায়ে পড়ে। অতীতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে এমন নজির রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের পরিবার বা সন্তানের কসম দিয়ে পাস করিয়ে দেওয়ার চিরকুট লিখত, এমনকি খাতার ভেতর টাকা গুঁজে দেওয়ার প্রচেষ্টাও দেখা গেছে। তবে এভাবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মরিয়া চেষ্টা উচ্চশিক্ষার গুণমানকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব

এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে মেধাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা তার ভিত্তি হারাবে। উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নকল বা অপ্রাসঙ্গিক উত্তর লিখে পাস করার এই অশুভ প্রবণতা রোধ করা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও নৈতিকতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।

এক ঝলকে

  • বিহারের টিএমবিইউ-এর পার্ট ওয়ান পরীক্ষায় অদ্ভুত সব উত্তরপত্র জমা পড়েছে।
  • রসায়নের খাতায় বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থী কর্তৃক পাসের অনুরোধের ঘটনা সামনে এসেছে।
  • উত্তরপত্রে পাঠ্য বিষয়ের বদলে ফিল্মি গান, গজল এবং আবেগী চিরকুট লিখছে পরীক্ষার্থীরা।
  • শিক্ষকদের তথ্যমতে, মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী সঠিক পদ্ধতিতে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে।
  • অতীতের তুলনায় খাতা ভরা আজব দাবি বা আবেগী ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা বর্তমানে অনেক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *