পরীক্ষার নম্বরই কাল হলো, ৯ বছরের মেয়েকে পিটিয়ে মারলেন বাবা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের পুনেতে পড়াশোনার নম্বর নিয়ে বিবাদের জেরে নিজের ৯ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে পিটিয়ে হত্যার এক হাড়হিম করা ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগে স্কুল থেকে পাওয়া পরীক্ষার রেজাল্ট কার্ড নিয়ে বাড়ি ফেরার পর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পরীক্ষায় মেয়ের প্রাপ্ত নম্বর বাবার প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় তিনি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
অবাস্তব প্রত্যাশা ও চরম নিষ্ঠুরতা
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সন্তানদের ওপর অভিভাবকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা কীভাবে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনা তারই এক ভয়াবহ প্রতিফলন। অভিযুক্ত বাবা চেয়েছিলেন তার মেয়ে ক্লাসে টপার হোক, কিন্তু নম্বর কম আসায় তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিবাদ শুরু হওয়ার পর তিনি শিশুটিকে নির্মমভাবে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে তার মাথা দেওয়ালে ঠুকে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক প্রভাব
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক বাবাকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পড়াশোনার বিষয়ে ওই ব্যক্তি আগে থেকেই মেয়ের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। এই ঘটনায় পুনেসহ গোটা মহারাষ্ট্রে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিভাবকদের মানসিক সচেতনতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার নামে শিশুদের ওপর এই মানসিক ও শারীরিক চাপ সুস্থ সমাজের অন্তরায়।
এক ঝলকে
- পুনেতে পরীক্ষার নম্বর কম পাওয়ার জেরে ৯ বছরের মেয়েকে হত্যা করলেন জন্মদাতা বাবা।
- রেজাল্ট কার্ড দেখার পর উত্তেজিত হয়ে বাবা শিশুটির মাথা দেওয়ালে ঠুকে দেন বলে অভিযোগ।
- পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেফতার করে খুনের মামলা দায়ের করেছে।
- পড়াশোনার চাপ ও অভিভাবকদের মানসিক বিকৃতির ভয়াবহতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
