‘পশ্চিমবঙ্গে গুন্ডা মুখ্যমন্ত্রী!’ মন্তব্য ঘিরে চরম বিতর্ক, শান্তিপুর থানায় হাজিরা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্য জনসভায় ‘গুন্ডা’ বলে কটাক্ষ করার জেরে তৈরি হওয়া বিতর্ক গাল গড়াল থানা পর্যন্ত। শান্তিপুর থানার নোটিশ পেয়ে রবিবার সেখানে হাজিরা দিতে পৌঁছলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে হাজিরা দিয়ে থানা থেকে বের হতেই সেখানে চরম উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হয়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা মাত্রই থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি তাঁকে লক্ষ্য করে ‘মাতাল’ বলে স্লোগান তোলার অভিযোগও ওঠে পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে।
কীভাবে শুরু বিতর্ক? ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি শান্তিপুরের উপ-নির্বাচনের ঠিক আগে। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামীর বাড়িতে একটি দলীয় কর্মীসভায় উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মেজাজ হারিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। চিৎকার করে কল্যাণকে বলতে শোনা যায়, “পশ্চিমবঙ্গে একজন গুন্ডা মুখ্যমন্ত্রী রয়েছে! সেই গুন্ডা মুখ্যমন্ত্রী সব জায়গায় পুলিশকে দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে…।” শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। (উল্লেখ্য, মূল নিবন্ধে ভুলবশত শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী বলা হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংশোধিত আকারে প্রকাশ করা হলো)।
থানায় হাজিরা ও পুলিশের নোটিশ মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্যকে অত্যন্ত অবমাননাকর বলে দাবি করে বিজেপি। এর পরেই শান্তিপুর থানায় কল্যাণের বিরুদ্ধে লিখিত এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই এফআইআর-এর ভিত্তিতেই পুলিশের পাঠানো নোটিশে সাড়া দিয়ে রবিবার শান্তিপুর থানায় হাজির হন তৃণমূল সাংসদ। থানা থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “শান্তিপুর থানা থেকে একটা নোটিশ পেয়েছিলাম, তাই দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে হাজিরা দিতে এসেছিলাম।”
থানার বাইরে ধুন্ধুমার কাণ্ড তবে আসল নাটক শুরু হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থানা থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময়। তাঁকে নজরে আসতেই বিজেপি কর্মীরা গাড়ি ঘিরে ধরে ‘মাতাল… মাতাল…’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই নিয়ে স্থানীয় বিজেপি যুব মোর্চার নেতা নিকুঞ্জ দত্ত কটাক্ষ করে বলেন, “উনি মদ ছাড়া চলেন না, উনি একজন মাতাল! উনি আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করেছেন। আগে জানলে এলাকার সব মদের দোকান বন্ধ করিয়ে রাখতাম।” হঠাৎ এই ঘটনায় থানার সামনে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও শান্তিপুর থানার পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
