পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বারবার অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্টের রিপোর্ট

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বারবার অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্টের রিপোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ সুক্ষ্ম পুনরীক্ষণ (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং এর পরবর্তী আপিল ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে তারা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করবে।

বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং আপিল করার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত।

ট্রাইব্যুনালের কাজ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী দেবদত্ত কামত দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ সত্ত্বেও আপিল ট্রাইব্যুনালগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে না। তাঁর উপস্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলো হলো:

  • আইনজীবীর অনুপস্থিতি: ট্রাইব্যুনালে সাধারণ মানুষকে তাঁদের আইনজীবীর মাধ্যমে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
  • ডিজিটাল প্রতিবন্ধকতা: অভিযোগ জানানো বা আবেদন করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনলাইন বা ইন্টারনেট ভিত্তিক মাধ্যম ব্যবহার করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ আইনি প্রতিকার পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
  • আদেশের অবমাননা: সুপ্রিম কোর্ট যে উদ্দেশ্যে এই স্বতন্ত্র আপিল ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল, তা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও কঠোর অবস্থান

বারবার একই ধরনের অভিযোগ আসায় বিচারপতি সূর্যকান্ত বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, “এই বিষয়ে বারবার নতুন নতুন অভিযোগ সামনে আসছে। তাই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে রিপোর্ট নেওয়া প্রয়োজন।”

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন বা বিয়োজন সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে এই স্বতন্ত্র ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে এই কাঠামো তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রধান বিচারপতিকে এবং এর খরচ বহনের নির্দেশ ছিল নির্বাচন কমিশনের ওপর।

ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা

আদালত ইতিপূর্বেই স্পষ্ট করেছে যে, সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা তখনই ভোট দিতে পারবেন যদি ট্রাইব্যুনালে করা তাঁদের আপিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গৃহীত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের কাজের ধীরগতি বা যান্ত্রিক জটিলতা বহু নাগরিকের ভোটাধিকারকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হাইকোর্টের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এখন এই মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে।

একঝলকে

  • ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বারবার অভিযোগে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট।
  • কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
  • আপিল ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীদের মাধ্যমে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ।
  • শুধুমাত্র অনলাইন আবেদনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীরা।
  • ট্রাইব্যুনাল সঠিকভাবে কাজ না করলে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *