পশ্চিমবঙ্গে ২২ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ কী? SIR মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় পদক্ষেপ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 29, 20267:50 am
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হলো। রাজ্য থেকে বাদ পড়া ২২ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকায় ফের উঠবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে জল্পনা। এই ইস্যুতে দায়ের হওয়া নতুন এক আবেদনকে আগামী ৫ অক্টোবরের মূল মামলার শুনানির সঙ্গেই যুক্ত করেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর— এই দুই বিধানসভার উপনির্বাচন সামনেই থাকলেও, ট্রাইব্যুনালে আটকে থাকা প্রায় ১৮ হাজার ভোটারের আবেদনের দ্রুত শুনানির আর্জি মানতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “এগুলি নিছকই উপনির্বাচন।”
আবেদনকারীর বিস্ফোরক তথ্য ও অঙ্কের অমিল: সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া নতুন আবেদনে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পরিসংখ্যান তুলে ধরে SIR প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
- Form 6 (নতুন নাম নথিভুক্তকরণ): পশ্চিমবঙ্গে Form 6-এর প্রায় ৩৪.১৩ লক্ষ আবেদনের মধ্যে মাত্র ৭.০৭ লক্ষ অনুমোদন পেয়েছে (২০.৭%) এবং ৭.২৬ লক্ষ বাতিল করা হয়েছে (২১.৩%)। প্রায় ২০ লক্ষ আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
- Form 7 (নাম বাদ দেওয়া): অন্যদিকে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য প্রাপ্ত ৬.৩৯ লক্ষ Form 7 আবেদনের মধ্যে প্রায় ৫.৭২ লক্ষই মঞ্জুর করা হয়েছে (৮৯.৬%) এবং বাতিল হয়েছে মাত্র ২.৩%।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি এবং নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক তৎপরতা— এই বিশাল ফারাকই প্রমাণ করে যে SIR প্রক্রিয়ায় বড়সর গলদ রয়েছে।
Form 6-এর নিয়মে বদল ও ধোঁয়াশা: কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, Form 6-এ আগে পূর্বপুরুষদের SIR তালিকায় নাম থাকা সংক্রান্ত যে বাধ্যতামূলক ঘোষণা দিতে হতো, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ যেসব রাজ্যে SIR শেষ হয়েছে সেখানে সেই নিয়ম শিথিল বা বাতিল করা হচ্ছে। বাদ পড়ে যাওয়া যোগ্য ভোটারদের সুযোগ দিতে ২০টি রাজ্যে ‘Special Enrollment Drive’ চালু করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
তবে মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে— পশ্চিমবঙ্গে জেলা আপিল ট্রাইব্যুনালে ঝুলন্ত ২২ লক্ষেরও বেশি বাদ পড়া ভোটার কি সরাসরি ‘ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ (ERO)-দের কাছে ফর্ম জমা দিয়ে পুনরায় নাম তুলতে পারবেন? এই বিষয়ে কমিশন এখনও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, যার ফলে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ৫ অক্টোবরের শুনানির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
