‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ নিয়ে বড় উদ্যোগ, রাজ্যের ইতিহাস জানতে স্কুল-কলেজে দু’ সপ্তাহের বিশেষ কর্মসূচি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আগামী ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ সাড়ম্বরে উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখে রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২০ জুন থেকে টানা দুই সপ্তাহ ধরে বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই দিনটিতে তারকেশ্বরে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যা এই উদযাপনের রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইতিহাসের পাঠ ও সচেতনতা বৃদ্ধি
উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ১৯৪৭ সালে কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ গঠিত হয়েছিল এবং এর পেছনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা বর্তমান প্রজন্মের অনেকেরই অজানা। আইনসভায় ভোটাভুটি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের তারকেশ্বর সম্মেলনের প্রস্তাবের মাধ্যমেই এই রাজ্যের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। সেই ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজ্যের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক রদবদল
ইতিহাস চর্চার পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। পূর্বতন সরকারের আমলে মনোনীত ব্যক্তিদের অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতির পদ ছেড়ে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলির পরিচালন সমিতি ইতিপূর্বেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং কাউন্সিলে থাকা আগের ব্যক্তিদেরও বিবেকের তাগিদে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কর্মসমিতিতে নতুন ও যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর।
এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা তাদের রাজ্যের জন্মলগ্নের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ পাবে, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থায় আসবে নতুনত্ব। তবে এই প্রশাসনিক রদবদল এবং ঐতিহাসিক দিবস পালনের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব আগামী দিনে রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
