পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধংদেহী আবহ, দিল্লির বুকে জয়শঙ্কর-আরাগচি হাইভোল্টেজ বৈঠক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়া দিল্লিতে আয়োজিত ২০২৬ সালের ‘ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক’-এর ফাঁকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সাথে এটিই ভারতের প্রথম উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক।
আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ
বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর পশ্চিম এশিয়ার ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের রুটে ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) এবং লোহিত সাগরের (Red Sea) মতো আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সামুদ্রিক রুটগুলোতে নিরাপদ এবং নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে ভারত উল্লেখ করেছে।
যুদ্ধের কারণ ও বিশ্ব বাজারে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব
আমেরিকা ও ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমালোচনা করে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, ইরান মূলত একটি অবৈধ আগ্রাসনের শিকার এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ এই নির্দিষ্ট রুট দিয়েই সম্পন্ন হয়। ফলে এই উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
