পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কি ‘ভাড়াটে শ্রমিকের’ সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছে? ঋণ সংকটে বির্পযস্ত পাকিস্তানের বিতর্কিত পদক্ষেপ- এবেলা

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কি ‘ভাড়াটে শ্রমিকের’ সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছে? ঋণ সংকটে বির্পযস্ত পাকিস্তানের বিতর্কিত পদক্ষেপ- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচতে পাকিস্তান তার সামরিক বাহিনীকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে ১৩ হাজার সৈন্য এবং বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান পাঠানোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঋণের বোঝা হালকা করতে গিয়ে ইসলামাবাদ নিজের সৈন্যদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ঋণের জালে সামরিক সার্বভৌমত্ব

পাকিস্তানের এই চরম সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করছে গভীর অর্থনৈতিক সংকট। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে নেওয়া ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধের জন্য দেশটির ওপর প্রবল চাপ ছিল। এই সংকট কাটাতে সৌদি আরব ও কাতারের কাছ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে পাকিস্তান। তবে এই বিশাল অংকের অর্থের বিনিময়ে দেশটিকে সৌদি আরবে ১৩ হাজার সৈন্য এবং ১৩ থেকে ২০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করার চুক্তিতে সই করতে হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, মূলত আর্থিক দেনা মেটাতেই সেনাবাহিনীকে ‘ভাড়াটে শ্রমিক’ হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার।

মার্কিন রণকৌশল ও বলির পাঁঠা তত্ত্ব

আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন সেনারা সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশ না নিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যদের অগ্রবর্তী বাহিনী বা ‘হিউম্যান শিল্ড’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এতে করে মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন রাখা সম্ভব হলেও পাকিস্তানি সৈন্যদের হতাহতের হার ব্যাপক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ‘বলির পাঁঠা’ তত্ত্ব এখন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে জনরোষ

এই বিতর্কিত সামরিক চুক্তির ফলে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির নিজ দেশেই নজিরবিহীন সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী মহলে তাকে নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। সমালোচকদের দাবি, স্রেফ কিছু ডলারের বিনিময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রশ্ন উঠছে। পাকিস্তানের একটি বড় অংশের মতে, একটি মুসলিম দেশের হয়ে অন্য একটি মুসলিম দেশের (ইরান) বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া নীতিগতভাবে ভুল।

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ যখন ঘনীভূত হচ্ছে, তখন সৌদি আরবে পাকিস্তানি সৈন্য মোতায়েন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। একদিকে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ এবং অন্যদিকে সীমান্তে পাকিস্তানের এই অবস্থান সরাসরি ইরানকে উত্তেজিত করতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং দেশটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বদলে পরাশক্তিদের ‘ভাড়াটে বাহিনী’ সরবরাহকারী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এক ঝলকে

  • ঋণ পরিশোধের চাপে সৌদি আরবে ১৩ হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে পাকিস্তান।
  • সৌদি ও কাতারের কাছ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার বিনিময়ে এই সামরিক চুক্তি।
  • ইরান যুদ্ধে পাকিস্তানি সৈন্যদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।
  • সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের পদত্যাগ ও জবাবদিহিতা দাবি করছে নেটিজেনরা।
  • আর্থিক লাভের জন্য মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ও দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জনের অভিযোগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *