পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে ইরানের যুদ্ধবিমান, ‘কালসাপ’ পুষছিলেন ট্রাম্প!

পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে ইরানের যুদ্ধবিমান, ‘কালসাপ’ পুষছিলেন ট্রাম্প!

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও তলে তলে ইরানকে ‘গোপন’ সামরিক সাহায্য দিয়ে আসছিল ইসলামাবাদ। রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান তাদের বেশ কিছু সামরিক বিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটিতে লুকিয়ে রেখেছে।

নূর খান ঘাঁটিতে ইরানি উপস্থিতির দাবি

মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে সিবিএস নিউজ দাবি করেছে, এপ্রিলের শুরুর দিকে বেশ কিছু ইরানি সামরিক বিমান পাকিস্তানের ওই ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এর মধ্যে ইরানি বিমানবাহিনীর একটি আরসি-১৩০ (RC-130) বিমানও রয়েছে বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা মহলের ধারণা, সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলা থেকে নিজেদের অবশিষ্ট সামরিক সম্পদ রক্ষা করতেই ইরান নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নিয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম পাকিস্তানের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটির ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

নাকচ করল পাকিস্তান ও ট্রাম্পের অস্বস্তি

যদিও এই বিস্ফোরক অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের দাবি, নূর খান বিমানঘাঁটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে গোপনে যুদ্ধবিমান লুকিয়ে রাখা আসাম্ভব। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই রিপোর্ট সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হবে। কারণ, ট্রাম্প বরাবরই পাকিস্তানের ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব ইসলামাবাদকে দিয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সমালোচকদের দাবি, ট্রাম্প কার্যত দুধ-কলা দিয়ে ‘কালসাপ’ পুষছিলেন, যারা পিঠপিছে আমেরিকার স্বার্থবিরোধী কাজ করে গেছে। এর ফলে আগামী দিনে আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *