‘পাথর খাদানের টাকা ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই যেত!’ চুরি রুখেই রাজস্ব বৃদ্ধির দিশা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

‘পাথর খাদানের টাকা ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই যেত!’ চুরি রুখেই রাজস্ব বৃদ্ধির দিশা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে বহুমুখী উন্নয়নের কথা বলা হলেও, বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল— এত প্রকল্পের টাকা আসবে কোথা থেকে? মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর জবাবি বক্তৃতায় সেই প্রশ্নেরই কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পূর্বতন সরকারের আমলের ‘চুরি’ আটকালেই রাজ্যের কোষাগার উপচে পড়বে। আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন বীরভূমের পাথর খাদানগুলিকে।

পাথর খাদান থেকে বিপুল আয়ের খতিয়ান:
মুখ্যমন্ত্রী এদিন পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণ করেন, পাথর খাদান থেকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বিগত সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের আকাশপাতাল তফাৎ।

  • তৃণমূল আমল: বীরভূমের পাথর খাদান থেকে বছরে রাজ্যের কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে আসত মাত্র ৬৩ কোটি টাকা।
  • বর্তমান বিজেপি সরকার: ৯ মে শপথ নেওয়ার পর মাত্র এক মাসেই এই খাত থেকে ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে নতুন সরকার।

বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “টাকা আসবে কোথা থেকে জানেন? আগামী দিনে এই আয় মাসে ১০০ কোটিতে দাঁড়াবে। অর্থাৎ শুধু এই খাত থেকেই বছরে ১২০০ কোটি টাকা আসবে।”

‘ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই’—তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ:
তৃণমূল জমানায় বিপুল রাজস্ব কেন সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনি, তা নিয়ে এদিন জোড়াফুল শিবিরকে তুলোধোনা করেন শুভেন্দু। কারও নাম না করে ‘যুবরাজ’ ও ‘ভানুয়াতু’ কটাক্ষ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “বীরভূমে পাথরের খাদানে কী হয়েছে জানেন? পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অ্যাকাউন্টে আসত মাত্র একশো কোটি, আর বাকি এগারোশো কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে চলে যেত দুবাই! এ তো পহেলে ঝাঁকি হ্যায়, আভি বহুত কুছ বাকি হ্যায়।” তিনি আরও বলেন, দলের নেতারা তখন নিছকই ল্যাম্পপোস্ট হয়ে ছিলেন এবং এর কোনও প্রতিবাদ করেননি।

ভোটকুশলী সংস্থাকে ১০ কোটি!
রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি বিধানসভায় আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, পূর্ত দপ্তরের এক ঠিকাদার কাকদ্বীপের একটি ব্যাঙ্কের শাখা থেকে সরাসরি এক ভোটকুশলী সংস্থার অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, এই দুর্নীতির বিষয়টিও তাঁর সরকার রেয়াত করবে না।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া:
মুখ্যমন্ত্রীর এই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অবশ্য সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর যুক্তি, মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু নির্দিষ্ট করে কারও নাম নেননি, তাই হাওয়ায় ভাসানো অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *