পায়ের পাতায় অসহ্য জ্বালা কি বড় কোনো বিপদের সংকেত – এবেলা

পায়ের পাতায় অসহ্য জ্বালা কি বড় কোনো বিপদের সংকেত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দৈনন্দিন জীবনে অনেকেরই রাতে ঘুমের সময় বা বিশ্রামের মূহূর্তে পায়ের তালুতে আগুনের মতো উত্তাপ বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘বার্নিং ফিট সিনড্রোম’ বলা হয়। সাধারণ ক্লান্তি মনে করে অনেকেই এই সমস্যাটি এড়িয়ে যান, তবে চিকিৎসকদের মতে এটি শরীরের ভেতরে থাকা কোনো গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী অস্বস্তি স্নায়বিক কোনো জটিলতার দিকে ইঙ্গিত করে।

জ্বালাভাবের নেপথ্যে মূল কারণ

পায়ের তালুতে এই জ্বালাপোড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি বা স্নায়ুর ক্ষতিকে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এই সমস্যার অন্যতম প্রধান উৎস, কারণ রক্তে অতিরিক্ত শর্করা সরাসরি পায়ের স্নায়ুগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ছাড়াও শরীরে জরুরি ভিটামিন B12, B6 এবং B9-এর ঘাটতি থাকলে স্নায়বিক দুর্বলতা দেখা দেয়, যা থেকে এই ধরনের জ্বালা সৃষ্টি হয়। কিডনির সমস্যা, থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা কিংবা রক্ত সঞ্চালনে বাধা থাকলেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

সতর্কতা ও প্রতিকারের পথ

সাময়িক স্বস্তির জন্য হালকা গরম জলে নুন মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখা বা নারকেল তেল দিয়ে মালিশ করার মতো ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। তবে এগুলো স্থায়ী সমাধান নয়। যদি জ্বালাপোড়ার পাশাপাশি পা অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিঁঝিঁ ধরার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা স্থায়ী স্নায়ুর ক্ষতির পূর্বাভাস হতে পারে। সঠিক সময়ে রক্ত পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করলে বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

এক ঝলকে

  • পায়ের তালুতে জ্বালা হওয়া ডায়াবেটিস বা পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির লক্ষণ হতে পারে।
  • ভিটামিন B-কমপ্লেক্সের ঘাটতি এবং কিডনি বা থাইরয়েডের সমস্যা এই সমস্যার অন্যতম কারণ।
  • দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা ভুল মাপের জুতো ব্যবহার রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটায়।
  • ঘরোয়া টোটকায় উপশম না হলে স্থায়ী স্নায়ুর ক্ষতি এড়াতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *