পায়ে বারবার ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব? অজান্তেই বড় বিপদের সংকেত নয় তো! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 15, 20268:53 am
এক জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, অতিরিক্ত হাঁটাচলা কিংবা আঁটসাঁট জুতো পরার কারণে পায়ে সাময়িক ঝিনঝিনি ধরা বা পা অসাড় হয়ে যাওয়া বেশ সাধারণ। তবে এই সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা কোনো বড় শারীরিক জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।
সমস্যার মূল কারণসমূহ
- স্নায়ুর ক্ষতি ও ডায়াবিটিস: পেরিফেরাল নার্ভের সমস্যা বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে পায়ে ‘পিন ফোটার’ মতো অনুভূতি, অসাড়তা বা তীব্র জ্বালা হতে পারে, যা রাতে আরও বাড়ে।
- পুষ্টির ঘাটতি: শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ বা ম্যাগনেশিয়ামের অভাব থাকলে স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পায়ে প্রায়ই ঝিনঝিনি ধরে।
- ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা: জলশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) কিংবা পেশির ক্লান্তির কারণে পায়ে তীব্র ক্র্যাম্প বা টান ধরতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস ও সতর্কতা
ভিটামিন বি১২ ও ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি মেটাতে খাদ্যতালিকায় দুধ, দই, ডিম, মাছ, পনির, বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার রাখা জরুরি। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো ভিটামিন বা পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে—বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে।
প্রতিরোধে করণীয়
- একনাগাড়ে দীর্ঘক্ষণ পা ক্রস করে বা একই ভঙ্গিতে বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।
- পায়ের আঙুল সহজে নাড়াচাড়া করা যায়—এমন আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করুন।
- প্রতিদিন হালকা শরীরচর্চা করুন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।
- খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, ফল ও প্রোটিন সমৃদ্ধ সুষম খাবার রাখুন।
কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?
পায়ের অবশ ভাব যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে, হাঁটার সময় সমস্যা হয় কিংবা পায়ে ক্ষত হলেও অনুভূতি না পাওয়া যায়, তবে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এছাড়া শরীরের যেকোনো একপাশে অসাড়তার সঙ্গে কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া বা ভারসাম্য হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন; কারণ এগুলি স্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
