পালাবদলের আবহে আর্টিস্ট ফোরামের পদ ছাড়লেন দিগন্ত, ‘বিবেকের দংশন’ নাকি রাজনৈতিক চাপ?

পালাবদলের আবহে আর্টিস্ট ফোরামের পদ ছাড়লেন দিগন্ত, ‘বিবেকের দংশন’ নাকি রাজনৈতিক চাপ?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার টলিউডের অন্দরেও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। রাজ্য সরকারে পালাবদল ঘটতেই পশ্চিমবঙ্গ আর্টিস্ট ফোরামের সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেতা দিগন্ত বাগচী। ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁর পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই গৃহীত হয়েছে। একসময় তৃণমূল কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই অভিনেতার হঠাৎ পদত্যাগ নিয়ে বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

চাপের মুখে পদত্যাগ? জল্পনা তুঙ্গে

ক্ষমতায় নতুন সরকার আসার পর কি দিগন্ত বাগচী কোনো বিশেষ মহলের চাপের মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নিলেন? স্টুডিওপাড়ায় কান পাতলে এমন গুঞ্জনই শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন সংগঠন ও ফোরামে রদবদল স্বাভাবিক ঘটনা, সেখানে দিগন্তের এই সরে যাওয়াকে অনেকেই সময়ের দাবি হিসেবে দেখছেন। তবে অভিনেতা নিজে এই ‘চাপ’-এর তত্ত্বকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন।

বিবেকের তাড়নায় সিদ্ধান্ত, দাবি অভিনেতার

নিজের পদত্যাগ প্রসঙ্গে দিগন্ত বাগচী অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সোজাসাপ্টা মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলই আমায় পদত্যাগ করতে বাধ্য করেনি। আমি নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” অভিনেতার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি কোনো বিতর্কের মধ্যে না থেকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইলেন।

আর্টিস্ট ফোরামে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

দিগন্ত বাগচীর ইস্তফা গ্রহণ করার পর ফোরামের সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদটি এখন শূন্য। নতুন রাজনৈতিক আবহে ফোরামের শীর্ষ পদে কারা আসবেন বা বর্তমান নেতৃত্ব কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে শিল্পীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। দিগন্তের এই সরে যাওয়া টলিউডের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। মূলত কোনো রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নৈতিক অবস্থান থেকেই এই পদত্যাগ—এমনটাই দাবি করেছেন অভিনেতা দিগন্ত বাগচী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *