পাল্টে যেতে পারে সরকারি কর্মীদের ডিউটির সময়, ২০২৬-এর আগে নবান্নে তুঙ্গে প্রশাসনিক তৎপরতা – এবেলা

পাল্টে যেতে পারে সরকারি কর্মীদের ডিউটির সময়, ২০২৬-এর আগে নবান্নে তুঙ্গে প্রশাসনিক তৎপরতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্যের রাজনীতি। বিশেষ করে বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিউটির সময়সীমা এবং বেতন কাঠামোয় কী ধরনের আমূল পরিবর্তন আসতে পারে, তা নিয়ে প্রশাসনের সদর দপ্তর নবান্নে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। কেন্দ্রীয় মডেলের অনুকরণে প্রশাসনিক সংস্কারের যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তাতে একদিকে যেমন পাওনা গণ্ডা মেটানোর সুযোগ রয়েছে, তেমনই বাড়ছে কাজের চাপের সম্ভাবনাও।

সপ্তম বেতন কমিশন ও বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি

বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার বা ‘সংকল্প পত্রে’ সরকারি কর্মচারীদের জন্য একগুচ্ছ আর্থিক সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) মধ্যে যে প্রায় ৩৫ শতাংশের ফারাক রয়েছে, তা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। বকেয়া ডিএ প্রাপ্তি নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলনের মাঝে এই ঘোষণা কর্মীদের একাংশের মধ্যে বড় আশার আলো জাগিয়েছে।

কড়া হবে হাজিরা ও কর্মসংস্কৃতি, বাড়তে পারে কর্মদিবস

আর্থিক প্রাপ্তির পাশাপাশি কাজের ধরনে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও প্রবল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরগুলোতে সকাল ৯:১৫ মিনিটের মধ্যে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক, অন্যথায় নৈমিত্তিক ছুটি কাটার কঠোর নিয়ম রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব ইঙ্গিত দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও এই কেন্দ্রীয় কর্মসংস্কৃতি মডেল কার্যকর করা হতে পারে। সবথেকে বেশি আলোচনা চলছে পাঁচ দিনের কর্মদিবস নিয়ে। ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক গতি বাড়াতে পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন কাজের নিয়ম ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও সেই পথে হাঁটা হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

প্রশাসনিক সংস্কার ও স্বচ্ছ নিয়োগের লক্ষ্য

বিজেপির লক্ষ্য ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত শূন্যপদে স্বচ্ছ ও মেধা-ভিত্তিক নিয়োগ সম্পন্ন করা। একই সঙ্গে বিগত বছরগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সার্ভিস রুল অনুযায়ী কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করার কথা জানানো হয়েছে। একদিকে বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দেওয়া, অন্যদিকে সময়ের কড়াকড়ি ও কাজের বর্ধিত চাপ—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা নতুন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বর্তমানে এই সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত সরকারি মহলের আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *