পুকুর সৌন্দর্যায়ন উদ্বোধনে তুলকালাম! মন্ত্রীর সামনে ক্ষোভ, মালিকদের লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান ও ডিম হামলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সরকারি প্রকল্পে জমি দিয়েও উদ্বোধনের আমন্ত্রণ পাননি, ফলকেও ঠাঁই হয়নি নাম! এই চরম ক্ষোভ থেকেই রাজ্যের মন্ত্রীর সামনে সোচ্চার হলেন পুকুরের মালিকরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়ায় যে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের উদ্বোধন না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হন রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। আর মন্ত্রী চলে যেতেই পুকুরের মালিকদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া এবং ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে চরম উত্তেজনায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে বর্ধমান শহরের সর্বমঙ্গলাপাড়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ধমান পুরসভার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দির সংলগ্ন ‘মিদ্যাপুকুর’ সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে। মালিকপক্ষ লিখিত অনুমতি (NOC) দেওয়ার পরেই সরকারি অর্থে সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়। রবিবার ছিল এই প্রকল্পের বহুল প্রতীক্ষিত উদ্বোধনের দিন।
অভিযোগ, পুরসভার আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে পুকুরের আসল মালিকদের বিন্দুমাত্র আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি ফলকেও রাখা হয়নি তাঁদের নাম। রবিবার দুপুরে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পুকুরের অংশীদার রুম্পা দত্ত ও শোভনজিৎ দত্তরা। মন্ত্রীর কাছে নিজেদের ক্ষোভ জানাতে গেলে সেখানে তীব্র বচসা বেঁধে যায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় ফিতে না কেটে পাশেই একটি মন্দিরের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এলাকা ছাড়েন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বেরিয়ে যেতেই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ পুকুর মালিকদের লক্ষ্য করে হঠাৎই ডিম ছুড়তে শুরু করে অন্য একটি পক্ষের লোকজন এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান তোলা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন পরিবারের নারীরাও। যদিও এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দল বা শিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
পুরো ঘটনায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র জানান, পুকুরের মালিকরা এনওসি দিয়েছিলেন ঠিকই, তবে এদিনের অনুষ্ঠানে তাঁদের আচরণ কাম্য ছিল না। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে উদ্বোধনের নতুন দিন নির্ধারণ করা হবে। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের দাবি— তারা কোনো অশান্তি চাননি, কেবল নিজেদের প্রাপ্য সম্মানটুকুই চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রী কথা না শুনেই চলে যান।
