পুজোয় বামেদের বুকস্টলে পর পর হামলা ও বাধা! এবার কলকাতা হাইকোর্টের দরবারে সিপিএম – এবেলা

পুজোয় বামেদের বুকস্টলে পর পর হামলা ও বাধা! এবার কলকাতা হাইকোর্টের দরবারে সিপিএম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন মণ্ডপের কাছাকাছি বুকস্টল বসানো বাম দলগুলির এক দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তবে এ বছর এই বুকস্টলকে কেন্দ্র করেই দেখা দিয়েছে চরম বিতর্ক। অভিযোগ, রাজ্যের একাধিক জায়গায় স্টল বানাতে যেমন মেলেনি ছাড়পত্র, তেমনই কোথাও কোথাও স্টল বাঁধার সময় সরাসরি শারীরিক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে কর্মীদের। পরিস্থিতি জটিল রূপ নেওয়ায় শেষমেশ সুবিচারের আশায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজনৈতিক দলটি।

অনুমতি ঘিরে টালবাহানার অভিযোগ:

সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ডানলপ ব্রিজের কাছে একটি অস্থায়ী সাহিত্য বিপণন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বরানগর পুরসভা, পিডব্লিউডি এবং ব্যারাকপুর ট্রাফিক গার্ডের অনুমতি নেওয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু অভিযোগ, ৫ অক্টোবর বরানগর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রশাসনিক টালবাহানা শুরু হয়।

পরবর্তীতে গত বুধবার থানার আইসি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে বুকস্টলের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। সংগঠনের দাবি, কেন অনুমতি বাতিল করা হলো তার কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ দেখায়নি পুলিশ।

আক্রমণ ও শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ:

অন্যদিকে, শুধু প্রশাসনিক বাধাই নয়, শারীরিক নিগ্রহের গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। সংগঠনের দাবি, ঢাকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে প্রায় ৪০ বছর ধরে বামপন্থীদের বুকস্টল বসে আসছে। অভিযোগ, এবার সেখানে স্টল বানাতে গেলে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা বাধা দেয় এবং কর্মীদের ওপর চড়াও হয়।

এই হামলায় সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের রাজ্য কমিটির সদস্য ও যাদবপুর-ঢাকুরিয়া লোকাল কমিটির সম্পাদক বাবুন চট্টোপাধ্যায়ের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও বেহালায় এসইউসিআই (SUCI) এবং কাঁচরাপাড়ায় সিপিআইয়ের বুকস্টলেও একই ধরনের দুষ্কৃতী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

হাইকোর্টে মামলার শুনানি:

বাম নেতৃত্ব মনে করছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁদের কণ্ঠরোধ করতে এই ধরনের চক্রান্ত করা হচ্ছে। সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও আক্রমণের প্রতিবাদে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার বিচারপতির এজলাসে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। শুনানির পর আদালত কী নির্দেশ দেয়, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *