পুজোর বাজারেও আলুর মন্দা! হিমঘরে স্তূপাকার ফসলে মাথায় হাত চাষি ও ব্যবসায়ীদের – এবেলা

পুজোর বাজারেও আলুর মন্দা! হিমঘরে স্তূপাকার ফসলে মাথায় হাত চাষি ও ব্যবসায়ীদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দুর্গাপুজোর মরশুমে আলুর চাহিদা ও দাম বাড়বে—এই আশাতেই বুক বেঁধেছিলেন রাজ্যের আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু উৎসবের মরশুম তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে পারেনি। উল্টে হিমঘরে মজুত আলুর বন্ডের দাম আরও তলানিতে নেমে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

বর্তমানে হিমঘরের এক বস্তা ফ্রি বন্ডের দাম নেমে এসেছে মাত্র ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। উত্তরবঙ্গের কৃষকদের পরিস্থিতি আরও শোচনীয়, সেখানে এক বস্তা ভালো আলু বিকোচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। চাষিদের মতে, এই সামান্য দামে উৎপাদনের খরচটুকুও উঠছে না। বাজারের এই মন্দা চলতে থাকলে লাভের মুখ দেখা তো দূরঅস্ত, বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসানের কবলে পড়তে হবে তাঁদের।

আলু ব্যবসায়ী জগবন্ধু মণ্ডলের কথায়, ভিন রাজ্যে বাংলার আলুর চাহিদা আগের মতো আর নেই। উত্তরপ্রদেশের আলু বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বাজার দখল করায় বাংলার আলুর বিক্রির সুযোগ অনেকটাই কমে গেছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত হিমঘর থেকে মোট মজুতের মাত্র ৫৪ শতাংশ আলু বের করা সম্ভব হয়েছে। বাকি আলু কীভাবে বিক্রি হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। পুজোর সময়ে দাম বাড়ার যে আশা ব্যবসায়ীরা করেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।

পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির পরিসংখ্যানেও এই চিত্র স্পষ্ট। সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত মরশুমে রাজ্যের হিমঘরগুলিতে মোট ১৬ কোটি ১ লক্ষ ৮ হাজার ২৭৮ প্যাকেট আলু সংরক্ষিত হয়েছিল। এর মধ্যে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ কোটি ৫৮ লক্ষ ১০ হাজার ৯৯৪ প্যাকেট আলু বের করা হয়েছে। কিন্তু অক্টোবরেও মজুত আলু বেরোনোর গতি বিশেষ বাড়েনি। অর্থাৎ, এখনও বিশাল পরিমাণ আলু হিমঘরেই পড়ে রয়েছে।

সাধারণত পুজোর আগে বাজারে আলুর চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। এই হিসেব কষেই ব্যবসায়ীরা আগেভাগে আলু কিনে হিমঘরে মজুত করেন এবং উৎসবের বাজারে চড়া দামে তা বিক্রি করেন। কিন্তু এবছর সেই চেনা ছবি উধাও। পুজোর দিনগুলিতেও বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে ব্যবসায়ীদের। তাঁদের আশঙ্কা, বিক্রি না বাড়লে আগামী দিনে বন্ডের দাম আরও কমতে পারে।

জেলাভিত্তিক হিসেবেও হিমঘরে মজুত আলুর পরিমাণ নেহাত কম নয়। এবছর পূর্ব বর্ধমানে ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ৪৪৪ প্যাকেট এবং মেদিনীপুরে ৩ কোটি ৬৩ লক্ষ ২৭ হাজার ২৭৮ প্যাকেট আলু সংরক্ষিত হয়েছিল। তবে সবচেয়ে বেশি আলু মজুত ছিল হুগলি জেলার হিমঘরগুলিতে। এত বিপুল পরিমাণে আলু মজুত থাকার পরেও আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আলু ব্যবসায়ী স্বপন মণ্ডলের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কৃষকরা ভবিষ্যতে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। যার ফলে চলতি মরশুমের লোকসানের পাশাপাশি আগামী দিনেও আলু চাষের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

পুজোর মতো বড় উৎসবেও যখন আলুর বাজার ঘুরে দাঁড়াল না, তখন আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—তা নিয়েই এখন গভীর উদ্বেগে রয়েছে পুরো কৃষিমহল।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *