পুজোর মুখে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের জল্পনা, নেপথ্যে তৃণমূল সাংসদের বিস্ফোরক দাবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 14, 20266:33 pm
দুর্গাপূজার আবহেই রাজ্য রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর মোড়। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জনই নাকি পুজোর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মশিবিরে পা বাড়াতে চলেছেন! কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বসুনিয়ার এই বিস্ফোরক দাবিতে রাজনৈতিক মহলে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আইনি কৌশল ও ১৭ সাংসদের পদ্ম-যাত্রা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া দাবি করেন, তাঁরা মূলত শুরু থেকেই সরাসরি বিজেপিতেই যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তবে দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে সর্বনিম্ন ২০ জন সাংসদের প্রয়োজন ছিল। সেই জটিলতা কাটাতেই মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্যালঘু সাংসদের সহায়তায় তাঁরা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পথ বেছে নেন। এখন আইনগত সমস্ত সবুজ সংকেত মিলে যাওয়ায় মুর্শিদাবাদের তিন জন সংখ্যালঘু সাংসদ বাদে বাকি ১৭ জনের বিজেপিতে যোগদানে আর কোনো বাধা নেই বলেই দাবি তাঁর।
খারিজ করল বিজেপি নেতৃত্ব তবে জগদীশবাবুর এই দাবিকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। রাজ্য বিজেপির বিশিষ্ট মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “কারো ব্যক্তিগত মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে বিজেপি চলে না।” তিনি স্পষ্ট মনে করিয়ে দেন যে, দলত্যাগ বিরোধী আইন সবার ক্ষেত্রেই সমান প্রযোজ্য এবং কোনো নেতার দলে যোগদানের বিষয় সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এখতিয়ারভুক্ত। একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, সাংসদরা কোনো শিশু নন যে কারো নির্দেশে হুট করে দলবদল করবেন।
অসন্তুষ্ট অন্য সাংসদরা, কড়া জবাব আবু তাহেরের এই বিতর্কের মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্যটিকে ব্যক্তিগত মতামত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি সাফ জানান, তাঁরা কোনো অবস্থাতেই বিজেপিতে যোগ দেবেন না, এমন কি এনডিএ (NDA) জোটেও থাকবেন না। নিজেদের সম্পূর্ণ স্বাধীন পথচলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জগদীশ বসুনিয়াকে অন্য কোনো সাংসদের হয়ে ওকালতি বা সাফাই দেওয়ার দায়িত্ব কেউ দেয়নি।
সব মিলিয়ে উৎসবের মরসুমে এই রাজনৈতিক জল্পনা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর পুরো রাজ্যবাসীর।
