পুণের ইনফোসিসে এবার ধর্মান্তরকরণ বিতর্ক, তোলপাড় মহারাষ্ট্র!

মহারাষ্ট্রের আইটি সেক্টরে পরপর দুই বিতর্কিত ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। টিসিএস-এর নাসিক শাখার পর এবার পুণের ইনফোসিস অফিস নিয়েও গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। করপোরেট সংস্কৃতির আড়ালে ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং নিপীড়নের মতো অভিযোগ আসায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
টিসিএস নাসিক কাণ্ড ও এসআইটি তদন্ত
গত মার্চ এ মাসে টিসিএস-এর নাসিক শাখার এক নারী কর্মী তার সহকর্মীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে নাসিক পুলিশ চাঞ্চল্যকর সব তথ্য পায়। পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) এই ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে জানা গেছে, সংস্থার ভেতর কর্মীদের গোমাংস খেতে বাধ্য করা, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং বিভিন্ন ধরনের যৌন নিগ্রহের মতো ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে মানবসম্পদ বিভাগের কর্ত্রী নিদা খানকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
পুণে ইনফোসিস নিয়ে অভিযোগ
নাসিককাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই পুণের ইনফোসিস অফিস নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। গত সোমবার সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মী অভিযোগ করেন, অফিসের ভেতরে বিভিন্ন গোষ্ঠী হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পরেই বিষয়টি রাজনৈতিক মোড় নেয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও নীতেশ রানের হুঁশিয়ারি
মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি সোশাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, আইটি সেক্টরে এ ধরনের কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যেই বিষয়টি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী প্রাক্তন কর্মীকে সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এক ঝলকে
- নাসিকের টিসিএস শাখায় গোমাংস খাওয়া, যৌন নিগ্রহ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
- এসআইটি-র তদন্তে নাসিককাণ্ডের প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উঠে এসেছে মানবসম্পদ বা এইচআর বিভাগের কর্ত্রী নিদা খানের নাম।
- নতুন করে পুণের ইনফোসিস অফিসের প্রাক্তন কর্মী ধর্মান্তরকরণ এবং ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
- মন্ত্রী নীতেশ রানে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
- পুরো বিষয়টি নিয়ে অবগত করা হয়েছে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে।
