পুরুলিয়ায় বহুমূল্য ‘গুপ্তধন’! খনি নিলামের নির্দেশ কেন্দ্রের, খুলছে হাজারো কর্মসংস্থানের দরজা – এবেলা

পুরুলিয়ায় বহুমূল্য ‘গুপ্তধন’! খনি নিলামের নির্দেশ কেন্দ্রের, খুলছে হাজারো কর্মসংস্থানের দরজা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অবশেষে খুলতে চলেছে বাংলার ভাগ্যের চাকা! পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের মাটিতে লুকিয়ে থাকা বিশ্বের অন্যতম দুষ্প্রাপ্য খনিজ সম্পদ ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল মৃত্তিকা মৌল উত্তোলনে সবুজ সংকেত দিল কেন্দ্র।

চলতি মাসের ১৫ তারিখ এই খনি নিলামের নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রক। এর ফলে বাংলায় প্রথমবার কোনও বড়সড় খনিজ ব্লকের নিলাম হতে চলেছে, যা রাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে জোয়ার আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

📍 কোথায় মিলল এই রত্নভাণ্ডার? পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের বেলমা গ্রাম পঞ্চায়েতের কালাপাথর ও রঘুডি গ্রামে এই বিপুল সম্পদের খোঁজ পেয়েছে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI)। সমীক্ষা অনুযায়ী, এখানে প্রায় ০.৬৭ মিলিয়ন টন বিরল খনিজ মজুত রয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকার গোলামারা-বারুডি এবং কোটশিলার খটঙ্গাতেও এই সম্পদের হদিশ মিলেছে।

💡 কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ‘রেয়ার আর্থ’? মোবাইল ফোন, অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক্স, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং রিনিউয়েবল এনার্জি তৈরিতে এই খনিজ অপরিহার্য। বর্তমানে বিশ্বের এই খনিজের সিংহভাগ রয়েছে চিনের দখলে। ভারত এতদিন আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, পুরুলিয়ার এই ভাণ্ডার দেশকে আত্মনির্ভর করতে বড় ভূমিকা নেবে।

💼 খুলছে কর্মসংস্থানের বিশাল দরজা: এই মেগা প্রকল্পের হাত ধরে রাজ্য ও কেন্দ্রের বিশাল রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। বদলে যেতে পারে জঙ্গলমহলের আর্থ-সামাজিক চিত্র।

কেন এতদিন আটকে ছিল কাজ? অভিযোগ, রাজ্যের বিগত সরকার পুরুলিয়ার এই রেয়ার মেটাল ব্লকের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য কেন্দ্রকে না দেওয়ায় নিলাম প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে ছিল। অবশেষে জটিলতা কাটিয়ে শুরু হতে চলেছে খননকাজ। ২০২৫ সালে ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন চালুর পর এই কাজে আরও গতি আসে।

✨ এবার পাহাড়ে সোনার খোঁজ! শুধু পুরুলিয়ায় রেয়ার আর্থ নয়, দার্জিলিং এবং বাঁকুড়াতেও চলছে জোরদার অনুসন্ধান। এমনকি কালিম্পং এলাকায় সোনার খনির হদিশ মিলতে পারে বলেও জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *