পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেপ্তার সুজিত বসু, আজই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে চাইবে ইডি
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/11/sujit-bose-arrested-2026-05-11-21-30-15.jpg)
রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার রাতে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্স থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার শারীরিক পরীক্ষার পর বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ককে আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তে অসহযোগিতা ও গ্রেপ্তারি
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগেও সুজিত বসুকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। গত ১ মে তিনি হাজিরা দিলেও সোমবার পুনরায় তাঁকে নথিপত্রসহ ডাকা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘ জেরায় সুজিত বসুর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে। তথ্য গোপন করা এবং তদন্তে সঠিক সহযোগিতা না করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারি সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই সল্টলেক সিজিও কমপ্লেক্স চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।
নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রভাব
সুজিত বসুর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন দক্ষিণ দমদম পুরসভায় কয়েকশো বেআইনি নিয়োগ হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুজিত বসুর সরাসরি যোগসূত্র ও সবুজ সংকেত ছিল। এর আগে তাঁর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছিলেন আধিকারিকরা।
রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক পরেই তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেপ্তারি রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী রাতে সিজিও কমপ্লেক্সে খাবার ও ওষুধ নিয়ে পৌঁছলেও তাঁকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তদন্তকারীদের মতে, সুজিত বসুকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে নিয়োগ দুর্নীতির শেকড় কতদূর বিস্তৃত, সে বিষয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে পারে। আজ আদালত তাঁকে কতদিনের ইডি হেফাজত দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
