পেটের দায়ে তারাতলায় কাজ, ছাদ ধসে মর্মান্তিক মৃত্যু ভাটপাড়ার কৃষ্ণর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পেটের তাগিদে ছুটেছিলেন নতুন কাজের খোঁজে। কিন্তু সেই কাজই যে তাঁর জীবনের শেষ কাজ হবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি ভাটপাড়ার পূর্বাশা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ চৌধুরী। বুধবার তারাতলায় নির্মীয়মাণ কারখানার ছাদ ধসে যে পাঁচজন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, তাঁদেরই একজন এই যুবক। তাঁর এই অকালমৃত্যু কেবল একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়, বরং কর্মহীনতার কারণে একজন সাধারণ শ্রমিকের অসহায় পরিণতির করুণ চিত্র তুলে ধরেছে।
ছাঁটাইয়ের পর বাঁচার লড়াই
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছর তিরিশের কৃষ্ণ দীর্ঘদিন ভাটপাড়ার রিলায়েন্স জুটমিলে কাজ করতেন। কিন্তু প্রায় ছ’মাস আগে জুটমিল থেকে ছাঁটাই হওয়ার পর তাঁর পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বৃদ্ধা মা-সহ গোটা পরিবারের আহার ও ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল তাঁরই কাঁধে। অভাবের তাড়নায় তিনি মাল বহন থেকে শুরু করে দিনমজুরির যেকোনো কাজ করতে বাধ্য হন। মাত্র দু’দিন আগে তারাতলার ওই পাইপলাইন প্রকল্পে ওয়েল্ডিংয়ের কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ভেঙে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
বিপন্ন পরিবার ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সংসারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে কৃষ্ণর পরিবার এখন পুরোপুরি দিশেহারা ও শোকে পাথর। তাঁর বৃদ্ধা মা ও ভাই চরম অসহায় অবস্থার সম্মুখীন। স্থানীয়দের স্মৃতিতে অত্যন্ত ভদ্র ও পরিশ্রমী এই যুবকের মৃত্যুতে গোটা পরিবার কার্যত পথে বসল। এই মর্মান্তিক ঘটনা একদিকে যেমন কর্মহীন শ্রমিকদের পেটের দায়ে ন্যূনতম নিরাপত্তাহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতাকে সামনে আনল, অন্যদিকে নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের সুরক্ষার চরম গাফিলতির দিকটিও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এই বিপর্যয় ভাটপাড়ার ওই শ্রমিক পরিবারটির সামনে এক গভীর অন্ধকার ভবিষ্যতের সৃষ্টি করেছে।
