পেট্রল-ডিজেলের পর এবার সিএনজি! এই গ্যাসের দামও বেড়ে গেল

শিয়ালদহ রোজগার মেলায় ৫১ হাজার যুবকের মেগা নিয়োগ এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প ঘিরে নবান্নের জোর কদমে স্ক্রুটিনির মাঝেই, মধ্যবিত্তের পকেটে ফের এক মস্ত বড় কোপ পড়ল। পেট্রল এবং ডিজেলের চড়া দামের ছ্যাঁকার পর এবার আমজনতার পকেটে টান মেরে একলাফে দাম বেড়ে গেল কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস বা সিএনজি (CNG)-র। শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ থেকে প্রতি কেজি সিএনজি-র দাম আরও ১ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গত মাত্র ৯ দিনের ভেতরে এই নিয়ে মোট ৪ টাকা দাম বাড়ল পরিবেশবান্ধব এই জ্বালানির। প্রাকৃতিক গ্যাসের এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে আগামী দিনে গণপরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভাড়া আরও বাড়ার আশঙ্কায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষের।
৯ দিনে তিনবার দাম বৃদ্ধি, মে মাসেই রেকর্ড ছ্যাঁকা
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর ভারত সফরের সমান্তরালেই দেশের বাজারে রান্নার গ্যাস ও সিএনজি-র এই লাগাতার দাম বৃদ্ধি মধ্যবিত্তের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি মে মাসেই ধাপে ধাপে যেভাবে সিএনজি-র দাম বাড়ানো হয়েছে, তার খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো:
- ১৫ মে: প্রতি কেজিতে একলাফে বাড়ানো হয়েছিল ২ টাকা।
- ১৭ মে: দুই দিনের মাথায় পুনরায় বাড়ানো হয় আরও ১ টাকা।
- ২৩ মে (আজ): আজ শনিবার ভোর থেকে ফের বাড়ানো হলো আরও ১ টাকা।
জ্বালানি বিপণন সংস্থাগুলির নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত দেশের রাজধানী দিল্লিতে সিএনজি-র দাম বাড়ার পর পরই কলকাতা-সহ দেশের অন্যান্য বড় শহর ও জেলাগুলিতেও সমান্তরালভাবে এই দাম বৃদ্ধি কার্যকর করা হয়। ফলে আজ থেকেই বর্ধিত মূল্যে সিএনজি কিনতে হচ্ছে গাড়ি চালকদের।
১ জুন থেকে কি তবে মহার্ঘ হবে রান্নার গ্যাসও?
সিএনজি-র এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির যে ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে, তা দেখে দেশের বাজার বিশেষজ্ঞরা এক চরম আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন। তাঁদের মতে, মে মাসের শেষে এসে যেভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী, তাতে আগামী ১ জুন থেকে গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের (LPG Cylinder) দামও যে একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে, তার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
একদিকে যখন জুন মাস থেকে রাজ্যে মহিলাদের বিনামূল্যে বাস সফর এবং ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য প্রশাসন ‘মিশন মোড’-এ কাজ করছে, ঠিক অন্যদিকে কেন্দ্র ও রাজ্য জুড়ে জ্বালানির এই ‘রাম ছ্যাঁকা’ সাধারণ মানুষের সংসারের বাজেটকে সম্পূর্ণ তছনছ করে দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
