প্যাকেটে ‘১০০% খাঁটি’ লেখা দেখে কিনছেন? FSSAI-এর বড় ঝটকায় সতর্ক ৫টি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড! – এবেলা

প্যাকেটে ‘১০০% খাঁটি’ লেখা দেখে কিনছেন? FSSAI-এর বড় ঝটকায় সতর্ক ৫টি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দোকানে গিয়ে প্যাকেটের গায়ে বড় বড় অক্ষরে ‘১০০% Pure’, ‘১০০% Natural’ কিংবা ‘১০০% Whole Grain’ লেখা দেখলেই আমরা ধরে নিই এটিই সেরা ও সম্পূর্ণ খাঁটি। তবে সাধারণ মানুষের এই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল একাধিক খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থা। এবার সেই ভাঁওতাবাজিতে পুরোপুরি লাগাম টানল ভারতের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ামক সংস্থা ‘FSSAI’।

FSSAI স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের খাদ্য সুরক্ষা আইনে ‘১০০%’ শব্দটির কোনো আইনি অস্তিত্ব বা সংজ্ঞা নেই। এই ধরণের শব্দ ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং পরোক্ষভাবে অন্যান্য ব্র্যান্ডকেও ছোট করা হচ্ছে—যা অ্যাডভারটাইজিং নিয়মের একেবারেই পরিপন্থী। এবার কেবল সতর্কবার্তা দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি FSSAI, সরাসরি কড়া ব্যবস্থা নিয়ে বাজারে প্রচলিত ৫টি বড় ব্র্যান্ডকে তাদের প্যাকেজিং ও বিজ্ঞাপনী দাবি বদলাতে বাধ্য করেছে।

আইনি কোপে যে ৫টি নামী সংস্থা:

  • বন বিস্কুট (Bonn Biscuits): তাদের জনপ্রিয় ‘জিরা বাইট’ বিস্কুটের বিজ্ঞাপনে এতদিন ‘১০০% হোল গ্রেইন’ দাবি করা হচ্ছিল। FSSAI-এর আপত্তির পর সেই দাবি সরাতে বাধ্য হয় তারা।
  • ইমামি ও এপিস ইন্ডিয়া (Zandu Honey): ‘ঝান্ডু হানি’-র প্যাকেটে থাকা ‘১০০% মধু’ লেখার মতো বিভ্রান্তিকর দাবিটি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
  • অ্যামওয়ে ইন্ডিয়া (Amway India): ‘পারসোনা কোকোনাট অয়েল’-কে ‘১০০% খাঁটি’ বলে প্রচার করা হচ্ছিল। সরকারি আপত্তির পর ওয়েবসাইট থেকে সেই দাবি সরানো হয়েছে এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন প্যাকেজিং আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • জুজা ফুডস (Juza Foods): কেরালার এই সংস্থা শিশুদের খাবারের প্যাকেটে ‘১০০% রাগি’, ‘১০০% ভেগান’ এবং ‘১০০% ক্লিন ইনগ্রেডিয়েন্টস’-এর মতো ভিত্তিহীন দাবি করছিল। যথাযথ প্রমাণ দিতে না পারায় আপাতত তাদের ই-কমার্স ওয়েবসাইট পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
  • মাস্টারচাও ফুডস (MasterChow Foods): এদের জনপ্রিয় ‘রামেন নুডুলস’-এ ‘১০০% ন্যাচারাল’ ট্যাগ দেওয়া ছিল, যা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী। নিয়ামক সংস্থার কড়া পদক্ষেপের পর তারা দ্রুত প্যাকেজিং বদলাতে বাধ্য হয়েছে।

সাধারণ ক্রেতা হিসেবে আপনার লাভ কোথায়?

FSSAI-এর এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে সবচেয়ে বড় জয় হলো সাধারণ ক্রেতাদের। এখন থেকে আর কেবল চমকপ্রদ শব্দ ব্যবহার করে কোনো কো ম্পা নি গ্রাহকদের ঠকাতে পারবে না। প্যাকেটের ভেতরে আসল উপাদান কতটা রয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানাতে হবে। ফলে কষ্টের টাকায় সঠিক জিনিসটিই হাতে পাবেন সাধারণ মানুষ। এরপরও যদি কোনো প্যাকেটে এমন বিভ্রান্তিকর দাবি চোখে পড়ে, তবে ‘Food Safety Connect’ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি FSSAI-এর কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *