প্রকৃতির রুদ্ররোষে শ্মশান উত্তরপ্রদেশ! ১১৭ প্রাণ কাড়ল ভয়াবহ তুফান, ধ্বংসস্তূপে ৩০০-র বেশি ঘরবাড়ি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড জনজীবন। গত বুধবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে এ পর্যন্ত ১১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের তীব্রতায় ভেঙে পড়েছে ৩৩০টি ঘরবাড়ি এবং প্রাণ হারিয়েছে ১৭৭টি গবাদি পশু। শুধু প্রাণহানিই নয়, দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৫০০টি ফ্লাইটের সময়সূচি ওলটপালট হয়ে যায় এবং ১৫টি বিমানকে অন্য শহরে ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
তছনছ জনপদ ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান
উত্তরপ্রদেশ ত্রাণ কমিশনারের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৃত ১১৭ জনের মধ্যে ১১৩ জনই ঘরবাড়ি ধসে বা ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছেন এবং ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রয়াগরাজে, সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ২৩ জন। এছাড়া মির্জাপুর, সন্ত রবিদাস নগর এবং ফতেহপুরেও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। ঝড়ের গতিবেগ কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যা গাছপালা উপড়ে ফেলার পাশাপাশি কাঁচা ও আধাপাকা বাড়িগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য সরকার প্রতিটি মৃত পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
কেন এই আকস্মিক তাণ্ডব?
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বিধ্বংসী পরিস্থিতির নেপথ্যে একাধিক বায়ুমণ্ডলীয় কারণ সক্রিয় ছিল। প্রথমত, উত্তর পাকিস্তান থেকে আসা একটি শক্তিশালী ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’ জম্মু-কাশ্মীর হয়ে উত্তর ভারতের সমতলে প্রবেশ করায় আবহাওয়ায় চরম অস্থিরতা তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, দক্ষিণ হরিয়ানা, উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের ওপর তৈরি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত ঝড়ের গতিবেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এই ঝড়কে আরও বেশি প্রাণঘাতী ও বিধ্বংসী করে তুলেছে।
