“প্রতিটি অত্যাচারের জবাব মিলবে”, হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম নিজের চেনা মাঠ নন্দীগ্রামে পা রেখেই তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীদের ওপর হওয়া ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, অতীতের প্রতিটি অত্যাচারের হিসাব নেওয়া হবে। তবে এই লড়াইয়ে কর্মীদের আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার এবং সম্পূর্ণ সংযম বজায় রাখার কড়া বার্তাও দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, দল শাসকের আসনে বসার পর কর্মীদের আগ্রাসন ও সংযমের ভারসাম্য বজায় রাখতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই কৌশলগত অবস্থান।
আইনি পথেই বিচারের আশ্বাস ও সংযমের বার্তা
২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যজুড়ে যে ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উঠেছিল, তাকে হাতিয়ার করেই সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভায় তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় বিজেপির বহু কর্মীকে খুন, মারধর ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, যার খতিয়ান দল নথিবদ্ধ করে রেখেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারগুলি পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে কোনো আর্থিক সাহায্য পায়নি। তবে দল এখন ক্ষমতায় থাকায় কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রতিশোধমূলক ভাঙচুর বা হিংসার সংস্কৃতিকে বিজেপি প্রশ্রয় দেবে না, বরং সম্পূর্ণ আইনি পথেই প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার সুনিশ্চিত করা হবে।
পরাজিত মমতাকে কটাক্ষ ও নন্দীগ্রামের নতুন রূপরেখা
বক্তব্যের শুরুতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে “দু-বারের পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী” বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের পর ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক নির্বাচনেও ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাছে ১৫,০০০-এর বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত হয়েছেন। সাংবিধানিক নিয়মে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভবানীপুর আসনটি ধরে রাখলেও, নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক যে অপরিবর্তিত থাকবে, তা আবেগঘন সুরে মনে করিয়ে দেন তিনি।
গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব কাঁধে আসায় নিজের অন্যতম প্রধান এই রাজনৈতিক দুর্গের দেখভালের জন্য একটি বিশেষ দল তৈরি করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে নন্দীগ্রামের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব সামলাবেন তাঁর ছোট ভাই তথা কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী এবং তাঁকে সহযোগিতা করবেন স্থানীয় ৫ জন বিজেপি বিধায়ক। বিধায়ক পদ ছাড়ার পর নন্দীগ্রামের কর্মীদের মনে যাতে কোনো ক্ষোভ তৈরি না হয় এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো যেন অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়, তা সুনিশ্চিত করতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
