প্রত্যাবর্তন না কি পরিবর্তন? সোম-দুপুরেই স্পষ্ট হবে বাংলার ভাগ্য, নজরে হাইভোল্টেজ ভবানীপুর

কলকাতা: আজ ৪ মে। প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজই জানা যাবে আগামী পাঁচ বছর পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার কার হাতে থাকছে। সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা। মোটামুটি দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে নীলবাড়ি কার—নবান্নের ১৪ তলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘প্রত্যাবর্তন’ ঘটবে, না কি দেড় দশক পর বাংলা ফের এক ‘পরিবর্তন’ দেখবে যার নিয়ন্ত্রক হবে লালদিঘির পাড়ের বিজেপি শিবির।
২৯৩ আসনের লড়াই, জাদুসংখ্যা ১৪৭
রাজ্যের মোট আসন ২৯৪ হলেও আজ ভোটগণনা হচ্ছে ২৯৩টি কেন্দ্রে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বাতিল করে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ফলে ফলতার ফল জানা যাবে ২৪ মে। এই মুহূর্তে ২৯৩টি আসনের নিরিখে সরকার গড়ার জাদুসংখ্যা বা ম্যাজিক ফিগার দাঁড়িয়েছে ১৪৭। প্রথম দফার ১৬ জেলার ১৫২টি আসন এবং দ্বিতীয় দফার ৭ জেলার ১৪২টি আসনের ওপর নির্ভর করছে যুযুধান দুই শিবিরের ভাগ্য।
নজরে ভবানীপুর: মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিরোধী দলনেতা
এবারের নির্বাচনের সবথেকে আলোচিত কেন্দ্র দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। ২০২১-এর নন্দীগ্রামের লড়াইকে ছাপিয়ে গিয়ে এবার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে মুখোমুখি লড়াইয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিরোধী দলনেতার সরাসরি লড়াই নজিরবিহীন, তাই সারা দেশের নজর আজ এই কেন্দ্রের দিকে।
সমীক্ষা বনাম আত্মবিশ্বাস
ভোট পরবর্তী বেশির ভাগ বুথফেরত সমীক্ষাই রাজ্যে বিজেপির হাত ধরে ‘পরিবর্তন’-এর ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে তৃণমূল সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে জানিয়েছে, ২০২১ বা ২০২৪-এর মতোই এবারও সমীক্ষা মিলবে না এবং তারা বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে। রেকর্ডসংখ্যক ভোটদান এবং ৩০ লক্ষ নতুন ভোটারের ঝোঁক কোন দিকে গিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কাটাছেঁড়া তুঙ্গে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোট ও মহিলা ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে ঝুঁকেছে, সেটাই হবে জয়ের আসল চাবিকাঠি।
জাতীয় প্রেক্ষাপট ও বামেদের অস্তিত্ব
বাংলার পাশাপাশি আজ গণনা চলছে আসাম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতেও। তবে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কেরল। যদি কেরলে বামেদের হাত থেকে ক্ষমতা চলে যায়, তবে ১৯৭৭ সালের পর এই প্রথম ভারতের মানচিত্র বামশূন্য হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেরলে বামেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই তাই জাতীয় স্তরেও বিশেষ আলোচনার বিষয়।
হিংসা রুখতে সতর্ক প্রশাসন
ফলাফল পরবর্তী হিংসা রুখতে এবার বাড়তি সতর্ক কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলো। একদিকে যেমন মোদী-শাহের কড়া হুঁশিয়ারি ছিল, তেমনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে’র বার্তা কর্মীদের মধ্যে উন্মাদনা বাড়িয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের কুণাল ঘোষও দাবি করেছেন, তাঁরা রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠাই চান। অধীর চৌধুরী ও সুজন চক্রবর্তীদের মতো বিরোধী নেতারাও গণনা প্রক্রিয়ায় কারচুপি রোখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে আজ বাংলার মসনদ কার দখলে যায়, তা জানতে এখন কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
