প্রথম দফার ভোটে কোটিপতিদের লড়াই, পরিসংখ্যান দেখলে চমকে উঠবেন!

বাংলার ভোটে পাল্লা ভারী ধনকুবেরদের, বাড়ছে পেশির শক্তির প্রভাব
আগামী ২৩ এপ্রিল বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম দফার প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৩০৯ জন প্রার্থী ‘কোটিপতি’। প্রচারের ময়দানে রাজনৈতিক আদর্শের লড়াই ছাপিয়ে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের বৈষম্য ভোটারদের চিন্তায় ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী লড়াইতে প্রার্থীর আর্থিক সক্ষমতা একটি বড় প্রভাবক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সাধারণ প্রার্থীর জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
দলভিত্তিক সম্পদ বৈষম্য
সম্পদের নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি—উভয় শিবিরই এগিয়ে রয়েছে। তৃণমূলের ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জনই (প্রায় ৭২ শতাংশ) কোটিপতি, যাদের গড় সম্পদ ৫.৭০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বিজেপির ১৫২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭১ জন (প্রায় ৪৭ শতাংশ) কোটিপতি, যাদের গড় সম্পদের পরিমাণ ২.৫৭ কোটি টাকা। তুলনামূলকভাবে বামপন্থী প্রার্থীদের গড় সম্পদ অনেক কম, ৯২.৪২ লক্ষ টাকা। ধনকুবেরদের এই আধিপত্য একদিকে যেমন নির্বাচনী প্রচারের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী নির্বাচনের নীতির দিকেও আঙুল তুলছে।
ফৌজদারি মামলা ও বিচিত্র বাস্তবতা
কেবল সম্পদের প্রাচুর্যই নয়, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাও আলোচনার কেন্দ্রে। প্রথম দফার মোট প্রার্থীর ২৩ শতাংশের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। একদিকে জাকির হোসেন বা গৌতম মিশ্রের মতো প্রার্থীদের ১০০ কোটিরও বেশি সম্পত্তির দাপট, আর অন্যদিকে রুবিয়া বেগম বা সুশ্রিতা সোরেনের মতো প্রার্থীদের মাত্র ৫০০-৭০০ টাকার সম্বল—বাংলার নির্বাচনী ময়দানে এই বৈপরীত্য গণতন্ত্রের এক বিচিত্র ছবি তুলে ধরছে। এই ক্রমবর্ধমান আর্থিক ও ফৌজদারি প্রভাব ভবিষ্যতে সংসদীয় রাজনীতির গুণগত মানকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- প্রথম দফার প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৩০৯ জন কোটিপতি।
- তৃণমূল প্রার্থীদের গড় সম্পদ ৫.৭০ কোটি টাকা, যা অন্যান্য দলের তুলনায় সর্বাধিক।
- বামপন্থী প্রার্থীদের গড় সম্পদ সর্বনিন্ম (৯২.৪২ লক্ষ টাকা)।
- মোট প্রার্থীর ২৩ শতাংশের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা।
