প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই দুর্যোগের মেঘ, কেমন থাকবে যোগ দিবসের আবহাওয়া? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পা রাখতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনসহ তাঁর একাধিক কর্মসূচিকে ঘিরে যখন প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই চিন্তার ভাঁজ ফেলছে রাজ্যের আবহাওয়া। শনিবার থেকে আবহাওয়া বদলের পূর্বাভাস থাকলেও, শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণের জেরে ইতিমধ্যেই দুধিয়া সেতু ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে, কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ২১ জুনের যোগ দিবসের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও জোড়া ফলার প্রভাব
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাজ্যে এই মুহূর্তে মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি পাঞ্জাব থেকে বিহার পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা অবস্থান করছে এবং বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প উত্তরবঙ্গের দিকে প্রবেশ করছে। এই জোড়া ফলার কারণেই বঙ্গের দুই প্রান্তে অঝোর ধারায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। তীব্র গরম থেকে রাজ্যবাসী স্বস্তি পেলেও, এই আসাময়ের দুর্যোগ ভিআইপি সফর ও জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও প্রভাব
আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের ওপরের পাঁচটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে আগামী তিন দিন আবহাওয়ার তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে ২০ ও ২১ তারিখ সব জেলাতেই বৃষ্টি চলবে। শনিবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান ও দুই মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। তবে ২১ জুন অর্থাৎ যোগ দিবসের দিন ভারী বৃষ্টি না হলেও, দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সর্বত্র বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুরের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বাড়তে পারে। আগামী সাত দিন রাজ্যজুড়ে বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তবে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে আগামী এক সপ্তাহ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ডিগ্রি কম থাকবে, ফলে গরমের অস্বস্তি থাকবে না। তবে একটানা বৃষ্টির জেরে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়া এবং যোগ দিবসের বহিরঙ্গন কর্মসূচি বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
