প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার জেরে ঝাড়গ্রাম থেকে ফিরতে হলো হেমন্ত সোরেনকে!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আকস্মিক ঝালমুড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। গত রবিবার নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার পথে রাস্তার ধারের একটি দোকান থেকে ঝালমুড়ি খেতে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর এই ঝালমুড়ি খাওয়ার শখের কারণেই ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সূচিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে।
তৃণমূলের আদিবাসী বিরোধী অভিযোগ
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রী যখন ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য নিজের অবস্থান দীর্ঘায়িত করছিলেন, তখন নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনের হেলিকপ্টারকে ঝাড়গ্রামে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর কোনো উপায় না দেখে সোরেন দম্পতি তাঁদের নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে রাঁচিতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এই ঘটনাকে মোদীর ‘আদিবাসী বিরোধী’ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছে তৃণমূল। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রচারের সময়কে একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর সাংবিধানিক অধিকারের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে।
ভোটের সমীকরণে প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন বিতর্ক আদিবাসী ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে পারে। ঝাড়গ্রামের মতো এলাকায় আদিবাসী ভাবাবেগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। প্রধানমন্ত্রী যেখানে সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের অংশ হিসেবে ঝালমুড়ি খাওয়ার বিষয়টিকে তুলে ধরতে চেয়েছেন, সেখানে তৃণমূল এটিকে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও বিরোধী নেতাদের অবমাননার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। আগামী মে মাসে ফলাফল ঘোষণার আগে এই সংঘাত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এক ঝলকে
- ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের মাঝে রাস্তার ধারের দোকান থেকে ঝালমুড়ি খান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
- প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের কারণে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও বিধায়ক কল্পনা সোরেনকে হেলিকপ্টার অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
- দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর কর্মসূচি বাতিল করে ঝাড়গ্রাম থেকে রাঁচিতে ফিরে যান সোরেন দম্পতি।
- এই ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রীর ‘আদিবাসী বিরোধী’ আচরণ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
