প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলা! শতাব্দীর ভয়াবহতম বিপর্যয়ে মৃত অন্তত ১৬৪ – এবেলা
.jpeg.webp?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হেনেছে শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্প। বৃহস্পতিবার ভোরে রিখটার স্কেলে ৭.১ ও ৭.৫ মাত্রার এই পরপর দুটি শক্তিশালী কম্পনে রাজধানী কারাকাস-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই মেগা-ভূমিকম্পের জেরে ইতিমধ্যেই অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ভেঙে পড়া একাধিক বহুতল ও আবাসনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আটকে রয়েছেন বহু মানুষ। ফলে আগামীতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধির তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
অগভীর উৎপত্তিস্থল ও ধ্বংসলীলার কারণ
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা (USGS)-র তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে মোরন উপকূলীয় অঞ্চলের পশ্চিমাংশে। ভূগর্ভের মাত্র ১৩ কিলোমিটার গভীরে এই অগভীর কম্পনটির উৎপত্তি হওয়ার কারণেই ভূপৃষ্ঠে ঝাঁকুনির তীব্রতা ও ধ্বংসযজ্ঞ এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভেনেজুয়েলা মূলত দক্ষিণ আমেরিকান এবং ক্যারিবীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে একাধিক চ্যুতিরেখার ওপর অবস্থিত। যদিও দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অত্যন্ত সক্রিয় টেকটোনিক বলয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর বাইরে অবস্থিত, তবুও প্লেটের আকস্মিক স্থানচ্যুতির ফলেই এই বিরল ও শক্তিশালী বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
শতাব্দীপ্রাচীন ভয়াবহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তি
ভেনেজুয়েলায় বছরে গড়ে প্রায় ৯৫টি মৃদু ভূমিকম্প হলেও, ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প অত্যন্ত বিরল। এই সাম্প্রতিক জোড়া কম্পন দেশের ইতিহাসে ১৮১২ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ১৯৬৭ সালেও বড় আকারের কম্পনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিগত কয়েক দশকের অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিবেশের পর এই আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক জোড়া ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলার পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতে দেশটিতে গভীর মানবিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের জন্ম দিতে পারে।
