প্রিজন ভ্যানে কালীমূর্তি তোলার খেসারত! সাসপেন্ড বাংলার দাপুটে আইপিএস কোটেশ্বর রাও, বড় পদক্ষেপ সরকারের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কালীমূর্তি অবমাননা ও সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে একটি কালীমূর্তিকে প্রিজন ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগে তৎকালীন সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাওকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার, অত্যাচার এবং ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে কোটেশ্বর রাও ছাড়াও আরও চার পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল কাকদ্বীপে?
কাকদ্বীপে কালীপুজোর সময় একটি কালীমূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। অভিযোগ ওঠে, সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নামে তৎকালীন পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাওয়ের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা হয়। এখানেই শেষ নয়, অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়টিকে উপেক্ষা করে একটি কালীমূর্তিকেই প্রিজন ভ্যানে চাপিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাই পরবর্তীতে বড় বিতর্কের জন্ম দেয়।
গত বছর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেই সময় বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শাণিত করেছিল। অবশেষে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সেই আলোচিত ঘটনার জেরে অভিযুক্ত আইপিএসের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করা হলো।
শাস্তির মুখে আরও চার পুলিশ আধিকারিক
শুধু সুন্দরবনের তৎকালীন পুলিশ সুপারই নন, কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে আরও চার পুলিশ আধিকারিককে। সাসপেন্ড ও অভিযুক্তদের এই তালিকায় রয়েছেন—
- উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানার এক প্রাক্তন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর (ASI)। তদন্ত চলাকালীন এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
- কলকাতা পুলিশের এক প্রাক্তন সাব-ইনস্পেক্টর (SI) এবং এক প্রাক্তন ইনস্পেক্টর।
- নদিয়ার এক প্রাক্তন ইনস্পেক্টর, যাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য ও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং বিগত দিনের পুলিশি হেনস্তার কড়া জবাব দিতে সরকারের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
