প্রেমিকার দেড় বছরের শিশুকে আছড়ে খুন, বিয়ের পথের কাঁটা সরাতে নৃশংস কাণ্ড যুবকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সম্পর্কের মাঝে বারবার দেওয়াল হয়ে দাঁড়াচ্ছিল দেড় বছরের এক নিষ্পাপ শিশু। তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলে তবেই রাস্তা পরিষ্কার হবে এবং মেটানো যাবে বিয়ের সাধ। এই চরম বিকৃত মানসিকতা থেকেই উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদে এক হাড়হিম করা কাণ্ড ঘটিয়েছে এক যুবক। প্রেমিকার দেড় বছরের শিশুপুত্রকে বারবার মাটিতে আছড়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ও অমানবিক ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা এলাকা।
হত্যাকাণ্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শিশুটির এক আত্মীয়ের বাড়ির বাইরের একটি শুনশান গলি দিয়ে ওই যুবক শিশুটিকে কোলে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এর পরেই হঠাৎ সে রূপ বদলে চরম হিংস্র হয়ে ওঠে। কোল থেকে নামিয়ে ওই একরত্তি শিশুকে পর পর বেশ কয়েকবার সজোরে পাথুরে রাস্তায় আছাড় মারে সে। এই নৃশংস অত্যাচারের পর রাস্তায় নিথর হয়ে পড়ে থাকে শিশুটি। অচৈতন্য অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ত্রিকোণ প্রেম ও খুনের ব্লু প্রিন্ট
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুটির নাম আরভ। সুমিত নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আরভের মা রতির বিয়ে হয়েছিল। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, বিরাজ নামের এক যুবক রতির প্রেমে পাগল ছিল এবং তাকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। রতির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিরাজ মনে করত আরভ বেঁচে থাকলে রতিকে বিয়ে করা কোনওদিনই সম্ভব হবে না। সে আরভকে তাদের সম্পর্কের মাঝে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করতে শুরু করে এবং সেখান থেকেই খুনের পরিকল্পনা করে।
গত শুক্রবার রতি তাঁর বাপের বাড়ি থেকে ফিরোজাবাদে নিজের মাসির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। কোনওভাবে বিরাজ খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে হাজির হয়। এরপর টফি কিনে দেওয়ার নাম করে সে দেড় বছরের আরভকে কোলে তুলে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যায় এবং নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটায়।
পুলিশি তৎপরতা ও সামাজিক প্রভাব
খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আরভের দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে মূল অভিযুক্ত বিরাজ। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে। আশপাশের সমস্ত এলাকায় ব্যারিকেড ও নাকা চেকিং বসানো হয়েছে।
এই ধরণের ঘটনা সমাজে অপরাধমূলক মানসিকতার চরম অবক্ষয়কে প্রতিফলিত করে। ব্যক্তিগত স্বার্থ ও বিকৃত ইচ্ছা পূরণের জন্য একটি অবোধ শিশুকে বলি দেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয় স্তরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর ফলে পারিবারিক নিরাপত্তা এবং পরিচিত ব্যক্তিদের ওপর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী।
