ফলাফল বেরোতেই উত্তপ্ত বাংলা! জেলায় জেলায় তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ফলাফল বেরোতেই উত্তপ্ত বাংলা! জেলায় জেলায় তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

কলকাতা ৫ মে, ২০২৬। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসা। আসানসোল থেকে নন্দীগ্রাম, ঝাড়গ্রাম থেকে কলকাতা—একাধিক জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। জয়ের আবহে বিভিন্ন জেলায় বিরোধী শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে এই আক্রমণের অভিযোগ তুলেছে ঘাসফুল শিবির।

আসানসোলে অশান্তির সূত্রপাত

এবারের গোলমালের সূত্রপাত শিল্পাঞ্চল আসানসোল থেকে। এরপর একে একে চুরুলিয়া, পানুরিয়া ও বারাবনিতে তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পর কার্যালয়গুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

আক্রান্ত নন্দীগ্রাম ও বীরভূম

নির্বাচনের সময় থেকেই নজরে থাকা নন্দীগ্রামের সোনাচূড়াতেও তৃণমূলের কার্যালয় জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। বীরভূম জেলাতেও পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। সদাইপুর, কীর্ণাহার ও দুবরাজপুরে তৃণমূলের একাধিক বুথ অফিস ও দলীয় কার্যালয় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, রঘুনাথগঞ্জ ও নবদ্বীপেও একই ধরনের অশান্তির খবর মিলেছে।

কলকাতাতেও অগ্নিকাণ্ড

রাজ্যের জেলাগুলোর পাশাপাশি উত্তপ্ত খোদ তিলোত্তমাও। কলকাতার বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শহরের বুকেও এমন হামলা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কসবা থেকে শুরু করে দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

পুলিশি সক্রিয়তা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অনেক জায়গায় পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। গণনার পর যাতে এই হিংসা আর না ছড়িয়ে পড়ে, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *