ফাঁকা জমি বা দোকান ঘরেই খুলবে উপার্জনের রাস্তা! প্রতি মাসে ঘরে বসেই আয় করুন মোটা টাকা, জানুন আবেদনের পদ্ধতি – এবেলা

ফাঁকা জমি বা দোকান ঘরেই খুলবে উপার্জনের রাস্তা! প্রতি মাসে ঘরে বসেই আয় করুন মোটা টাকা, জানুন আবেদনের পদ্ধতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: আপনার কি রাস্তার ধারে কোনো ফাঁকা দোকানঘর, বাণিজ্যিক জায়গা বা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জমি রয়েছে? তাহলে আর চিন্তা নেই। আপনার এই অব্যবহৃত সম্পত্তিই এবার হয়ে উঠতে পারে প্রতি মাসের নিয়মিত আয়ের এক বড় উৎস। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং বেসরকারি এটিএম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা নতুন এটিএম বসানোর জন্য উপযুক্ত জায়গার খোঁজ করছে। আপনার জায়গাটি ভাড়া দিয়ে আপনিও প্রতি মাসে নিশ্চিত ভালো অঙ্কের টাকা আয় করতে পারেন।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, একবার এটিএম বসে গেলে ব্যবসা পরিচালনা বা দৈনন্দিন কোনো ঝামেলা আপনাকে পোয়াতে হবে না। নির্দিষ্ট সময় অন্তর সরাসরি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভাড়ার টাকা চলে আসবে।

কোথায় এটিএম বসানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?

ব্যাঙ্ক ও এটিএম অপারেটররা সাধারণত এমন স্থান বেছে নেয় যেখানে মানুষের যাতায়াত ও ভিড় বেশি থাকে। যেমন:

  • ব্যস্ত বাজার বা শপিং এলাকা
  • ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক অঞ্চল
  • রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা
  • হাসপাতাল, কলেজ ও সরকারি অফিসের আশপাশ
  • ছোট শহর বা মফস্বল, যেখানে এটিএমের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম

কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে?

সাধারণভাবে একটি এটিএম কিয়স্কের জন্য ৬০ থেকে ১০০ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয়। এর পাশাপাশি কয়েকটি মৌলিক শর্ত মানতে হয়:

  • জায়গাটি অবশ্যই নিচতলায় (Ground Floor) হতে হবে।
  • ২৪ ঘণ্টা যাতায়াতের সুবিধা থাকতে হবে।
  • বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  • সিসিটিভি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার মতো পরিকাঠামো প্রয়োজন।
  • মজবুত নির্মাণ ও কংক্রিটের ছাদ থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

কীভাবে আবেদন করবেন?

এটিএম বসাতে চাইলে আপনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নিকটবর্তী শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন। প্রক্রিয়াটি মূলত নিচে দেওয়া পদক্ষেপ অনুযায়ী হয়:

১. নিকটবর্তী ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়ে নির্দিষ্ট আবেদনপত্র জমা দিন।

২. সম্পত্তির ছবি ও অবস্থানের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করুন।

৩. মালিকানার বৈধ নথি জমা দিতে হবে।

৪. ব্যাঙ্কের একটি প্রতিনিধি দল এসে জায়গাটি পরিদর্শন করবে।

৫. সব শর্ত পূরণ হলে লিজ বা ভাড়ার চুক্তি (Lease Agreement) প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমেও সুযোগ:

শুধু ব্যাঙ্ক নয়, বর্তমানে অনেক ‘হোয়াইট-লেবেল এটিএম’ (White-Label ATM) সংস্থাও এটিএম পরিচালনা করে। আপনি চাইলে Tata Indicash, India1 Payments, বা Hitachi Payment Services-এর মতো নামী সংস্থার কাছেও আপনার জায়গা ভাড়ার প্রস্তাব পাঠাতে পারেন।

আবেদন করতে কী কী নথি লাগবে?

  • সম্পত্তির মালিকানার কাগজ বা রেজিস্ট্রি দলিল
  • পরিচয়পত্র ও কর প্রদানের প্রমাণ (যেমন প্যান কার্ড, আধার কার্ড ইত্যাদি)
  • সম্পত্তি করের রসিদ
  • প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসনের নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC)
  • সম্পত্তির সাম্প্রতিক ছবি ও বিদ্যুৎ সংযোগের তথ্য

মাসে কত টাকা ভাড়া পাওয়া যেতে পারে?

ভাড়ার পরিমাণ সম্পূর্ণ নির্ভর করে জায়গাটির অবস্থান এবং বাণিজ্যিক গুরুত্বের ওপর:

  • মেট্রো শহরে: প্রতি মাসে প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা বা তার বেশি।
  • দ্বিতীয় সারির শহরে: ১৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টাকা।
  • আধা-শহুরে বা মফস্বল এলাকায়: ৮,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা।

চুক্তির মেয়াদ ও রক্ষণাবেক্ষণ

সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য লিজ চুক্তি করা হয়। অধিকাংশ চুক্তিতেই প্রতি বছর ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির শর্ত থাকে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটিএম চালুর পর মেশিনে ক্যাশ ভরা, যন্ত্রের মেরামতি, সিসিটিভি, নিরাপত্তা, এসি চালানো বা বিমার সমস্ত খরচ ও দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা এটিএম অপারেটর সংস্থাই বহন করে। জায়গা মালিকের কোনো বাড়তি ঝক্কি থাকে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *