‘ফিরতে চাইলেও আর নেব না!’ একুশের মঞ্চ থেকে দলত্যাগীদের চরম হুঁশিয়ারি মমতার – এবেলা

‘ফিরতে চাইলেও আর নেব না!’ একুশের মঞ্চ থেকে দলত্যাগীদের চরম হুঁশিয়ারি মমতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দলের অন্দরে ভাঙন ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মঙ্গলবার কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালন করল তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই মঞ্চ থেকেই দলত্যাগী ও বিদ্রোহী নেতাদের প্রতি চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট ও কড়া বার্তা, “ক্ষমা করুন, আপনাদের আর প্রয়োজন নেই। ফিরতে চাইলেও আর নেব না!”

বিজেপির ‘পাশবালিশ’ কটাক্ষ

এদিনের সভা থেকে দলত্যাগীদের তীব্র আক্রমণ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দলের দুর্দিনে যাঁরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তাঁদের আর দরকার নেই। মমতা বলেন, “বিজেপির পাশবালিশ না হয়ে সোজা বিজেপিতে যান।” চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও যে কর্মীরা নিজের তাগিদে দলের পাশে রয়েছেন, তাঁদেরই তৃণমূলের ‘আসল সোনার খনি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাঝরাতে বাইক বাহিনীর তাণ্ডব

একুশের সভাকে বানচাল করতে রাতে বারবার চক্রান্ত হয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তাঁর দাবি, রাত ১০টার সময় সভামঞ্চ ভাঙার চেষ্টা হয় এবং মাইকের তার কেটে দেওয়া হয়। প্রায় ৬০০ জনের একটি বাইক বাহিনী এলাকায় তাণ্ডব চালায়। খবর পেয়ে রাতেই তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা সেনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাত ১১টায় এবং ভোর ৪টের সময়ও গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও তিনি জানান, পুলিশ বাধ্য হয়েই ওপরতলার নির্দেশে কাজ করছে।

‘লবডঙ্কা সরকার’ ও কর্মীদের কুর্নিশ

বর্তমান বিজেপি সরকারকে ‘লবডঙ্কা সরকার’ বলে তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ভয় না পেলে ভয় দেখাবে কাকে?” তাঁর অভিযোগ, অন্ডাল, বীরভূম ও রাজগঞ্জে তৃণমূলের বাস ও নেতাদের জোর করে আটকানো হয়েছে। তবে কোনো থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা বা ট্রেনের টিকিট ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে হাজার হাজার কর্মী ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা সভায় যোগ দিয়েছেন, তাঁদের কুর্নিশ জানান মমতা। তিনি উল্লেখ করেন, গত রাত থেকে অভিষেক, ডেরেক, মহুয়া, কল্যাণ থেকে শুরু করে অসংখ্য সাধারণ কর্মী এই সভাকে সফল করতে অক্লান্ত লড়াই করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *