ফুঁসছে সুবর্ণরেখা, দিঘায় পর্যটক-মৎস্যজীবীদের জন্য কড়া নিষেধাজ্ঞা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: ‘তৃণমূলীদের জন্য দরজা বন্ধ’—এই বার্তাই বারবার দিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে সেই তত্ত্বের সলিলসমাধি ঘটল। তৃণমূল ছেড়ে আসা তিন প্রাক্তণ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও রাজ্যের একাংশের সম্মতিতে যেন এতদিন ধরে রাখা ‘লকগেট’ খুলে দেওয়া হলো। আর এই সিদ্ধান্তে বিজেপির অন্দরেই তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দলের নীচুতলার কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, যে তৃণমূলকে এতদিন ‘তোলাবাজ’ বলে আক্রমণ করা হয়েছে, এখন তাদের নেতাদেরই দলে গ্রহণ করায় দলের আদর্শ ও কর্মীদের ভবিষ্যৎ কী হবে?
তৃণমূল থেকে আসা এই তিন নেতার অতীত ইতিহাসও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ৭৭ বছর বয়সী সুখেন্দু শেখর রায় আরজি কর কাণ্ড নিয়ে দলের সমালোচনার পর ফের তৃণমূলেই ফিরেছিলেন। প্রকাশচিক বরাইক উত্তরবঙ্গে বিজেপির কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অন্যদিকে, সুস্মিতা দেবের মূল কর্মকাণ্ড মূলত আসাম ও ত্রিপুরায় থাকলেও তাঁকে কেন বাংলা থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরেই।
শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য দাবি করেছেন, “এখন থেকে এঁরা কেবল বিজেপি কর্মী।” কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুদিন আগে পর্যন্ত তৃণমূলের হয়ে গলা ফাটানো নেতাদের হঠাৎ এই অন্তর্ভুক্তি বিজেপির পুরোনো কর্মীদের মনে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহার আগের দেওয়া মন্তব্যের সঙ্গে আজকের এই ঘটনার সাংঘর্ষিক রূপটি এখন বঙ্গ বিজেপির অন্দরে নতুন করে ‘তৃণমূল বনাম আদি বিজেপি’ লড়াইয়ের আগুন জ্বালিয়ে দিল।
