ফুটপাতে নিরাপদে হাঁটা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের রাস্তাঘাটে পথচারীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের অধিকার নিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একটি পাঁচ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে হাঁটার সুযোগ পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। যদি কোনো এলাকায় এই অধিকার লঙ্ঘিত হয় বা নিরাপদ ফুটপাতের অভাব থাকে, তবে সাধারণ মানুষের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার চাওয়ার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে।
বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি এএস চান্দুরকরের ডিভিশন বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণটি করেছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এক বাবা তাঁর পাঁচ বছরের সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় পিছন থেকে একটি ট্যাঙ্কার লরি তাদের ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভরতি করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শুনানিতে উঠে আসে যে, দুর্ঘটনাস্থলে পথচারীদের জন্য কোনো ফুটপাত কিংবা রাস্তা পারাপারের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। হাইকোর্ট ঘুরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে শীর্ষ আদালত মৃত শিশুর পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়িয়ে ১১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬২৮ টাকা করার নির্দেশ দেয় এবং আগামী দু’মাসের মধ্যে তা পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেয়।
অধিকার লঙ্ঘন ও প্রশাসনের উদাসীনতা
সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে দেশের নগর পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার এক বড় খামতিকে সামনে এনেছে। আদালত জানিয়েছে, সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে অবাধে ও নিরাপদে চলাফেরা করার অধিকার দিয়েছে। মোটর ভেহিকল আইনেও এই সুরক্ষার উল্লেখ রয়েছে। অথচ দেশের বহু শহরে এখনও পর্যাপ্ত ও নিরাপদ ফুটপাতের অভাব প্রকট। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যানবাহনের গতি ও সুবিধাকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, পথচারীদের সুরক্ষার বিষয়টি ততটাই উপেক্ষিত থেকে যায়।
রায়ের সম্ভাব্য দূরগামী প্রভাব
শীর্ষ আদালতের এই রায়ের ফলে দেশজুড়ে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। রাস্তা বা ফুটপাত নির্মাণে উদাসীনতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে এখন থেকে পুরসভা বা সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষকে সরাসরি জবাবদিহি করতে হবে। নাগরিকদের আইনি সুরক্ষার পথ প্রশস্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে নগরোন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোতে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলকভাবে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হবে প্রশাসন।
