ফুলশয্যার রাতে ঘরে ঢুকলেন কনে, সকালে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি! বরের কাণ্ড দেখে ডাকতে হলো পুলিশ – এবেলা

ফুলশয্যার রাতে ঘরে ঢুকলেন কনে, সকালে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি! বরের কাণ্ড দেখে ডাকতে হলো পুলিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরপ্রদেশের কানপুর জেলার মঙ্গলপুর থানা এলাকায় বিয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ধুমধাম করে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে প্রথম রাত কাটাতে গিয়ে বরের নৃশংসতার শিকার হন নববধূ। সামান্য কারণে স্ত্রীর ওপর বরের এমন অমানবিক আচরণে হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাসর ঘরে নৃশংস অত্যাচার ভুক্তভোগী কনে জানান, বিয়ের সব আচার শেষে তিনি বাসর ঘরে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ সময় পর বর ঘরে প্রবেশ করলে ক্লান্ত নববধূ ততক্ষণে ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, বর তাঁকে ডাকার চেষ্টা করলেও গভীর ঘুমে থাকায় কনে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিতে পারেননি। এতেই প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই যুবক। হাতের কাছে থাকা বেল্ট দিয়ে তিনি নববধূকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। কনের চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।

পুলিশি হস্তক্ষেপে সমঝোতা পরদিন সকালে কান্নায় ভেঙে পড়া নববধূ ফোনে বাপের বাড়িতে সব ঘটনা জানান। মেয়ের ওপর নির্যাতনের খবর পেয়ে স্বজনরা পুলিশ নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন। পুলিশ অভিযুক্ত বরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ টানটান উত্তেজনার পর উভয় পক্ষের মুরুব্বিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসার পথ খোঁজা হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার শর্তে দুই পক্ষই আপসনামায় স্বাক্ষর করে।

আইনি জটিলতা এড়ালেও এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব এবং উগ্র মেজাজের কারণেই এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে মামলা না করায় আপাতত বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমেই শেষ হয়েছে।

এক ঝলকে

  • কানপুরের মঙ্গলপুর এলাকায় বিয়ের পর বাসর রাতেই নববধূকে বেল্ট দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বরের বিরুদ্ধে।
  • ঘুমানোর কারণে ডাকতে দেরি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর ওপর হামলা চালায় অভিযুক্ত যুবক।
  • কনের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বরকে আটক করলেও পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়।
  • বর্তমানে কোনো আইনি পদক্ষেপ ছাড়াই বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *