ফুসফুসের ক্যান্সার কি সুপ্ত ঘাতক? জেনে নিন কাদের জরুরি নিয়মিত স্ক্রিনিং – এবেলা

ফুসফুসের ক্যান্সার কি সুপ্ত ঘাতক? জেনে নিন কাদের জরুরি নিয়মিত স্ক্রিনিং – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ফুসফুসের ক্যান্সার বর্তমান সময়ের অন্যতম মারাত্মক ব্যাধি। প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে না বললেই চলে। সাধারণত যখন দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা কিংবা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, ততক্ষণে রোগটি অনেকটাই জটিল রূপ ধারণ করে। তাই চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক অবস্থায় চিহ্নিত করার প্রধান হাতিয়ার হলো ‘স্ক্রিনিং’। তবে এই স্ক্রিনিং সবার জন্য ঢালাওভাবে প্রযোজ্য নয়; কেবল নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরই নিয়মিত এটি করানো উচিত।

কারা করাবেন এই স্ক্রিনিং? চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সি ব্যক্তিরা—যাঁরা বর্তমানে ধূমপায়ী অথবা অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে ধূমপান করেছেন (অন্তত ২০ ‘প্যাক-ইয়ার’-এর ইতিহাস রয়েছে)—তাদের বছরে অন্তত একবার লো-ডোজ় সিটি স্ক্যান (LDCT) করানো উচিত।

‘প্যাক-ইয়ার’ (Pack-Year) আসলে কী? ধূমপানের মাত্রা হিসাব করার বৈজ্ঞানিক একক হলো ‘প্যাক-ইয়ার’। উদাহরণস্বরূপ:

  • কেউ যদি ২০ বছর ধরে দিনে ১ প্যাক (২০টি) সিগারেট খান, তবে তা ২০ প্যাক-ইয়ার।
  • আবার কেউ ১০ বছর ধরে দিনে ২ প্যাক করে সিগারেট খেলেও তা ২০ প্যাক-ইয়ার ধরা হয়।

আমেরিকান প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস টাস্ক ফোর্সের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৫০-৮০ বছর বয়সি ব্যক্তি যাঁদের ২০ প্যাক-ইয়ার ধূমপানের ইতিহাস রয়েছে এবং যাঁরা এখনও ধূমপান করছেন কিংবা গত ১৫ বছরের মধ্যে ছেড়েছেন, তাঁদের প্রতি বছর লো-ডোজ় সিটি স্ক্যান করানো আবশ্যিক।

সাধারণ এক্স-রে নয়, কেন লো-ডোজ় সিটি স্ক্যান? সাধারণ চেস্ট এক্স-রে (Chest X-Ray) দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের ছোট টিউমার শনাক্ত করা প্রায় আসাম্ভব। অন্যদিকে, লো-ডোজ় সিটি স্ক্যান (LDCT) অত্যন্ত কম তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করে ফুসফুসের অত্যন্ত নিখুঁত ও স্পষ্ট ছবি তৈরি করতে পারে। ফলে শরীরে কোনো শারীরিক অস্বস্তি বা উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই LDCT-এর মাধ্যমে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র টিউমারও ধরা পড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করে রোগীর প্রাণ রক্ষা করা সহজ হয়।

ধূমপান না করলেও কি ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে? অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে ফুসফুসের ক্যান্সার কেবল ধূমপায়ীদেরই হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আজকাল যাঁরা ধূমপান করেন না, তাঁদের মধ্যেও এই ক্যান্সারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। পরিবেশের চরম বায়ুদূষণ, কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা এবং বংশগত/জেনেটিক কারণ নন-স্মোকারদের ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রধান অনুঘটক। তবে ধূমপান না করা ব্যক্তিদের অহেতুক বা ঘন ঘন লো-ডোজ় সিটি স্ক্যান করার প্রয়োজন নেই, যদি না চিকিৎসকের বিশেষ পরামর্শ থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *