বক্স অফিসে ব্যর্থতা থেকে কাল্ট ক্লাসিক! তরুণেরা চাকরি ছাড়ায় কেন চিন্তিত ইমতিয়াজ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০১৫ সালে মুক্তির সময় ভিড়ের মধ্যেই হারিয়ে গিয়েছিল পরিচালক ইমতিয়াজ আলির ‘তামাশা’। রণবীর কাপুর অভিনীত এই ছবিটি তখন দর্শকের কাছে অতিরিক্ত জটিল ও দুর্বোধ্য মনে হওয়ায় বক্স অফিসে আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। তবে সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে ছবিটির ভাগ্য। মিলেনিয়াল প্রজন্মের কাছে এটি এখন এক ‘কাল্ট ক্লাসিক’। কর্পোরেট জীবনের একঘেয়েমি ভেঙে নিজের প্রকৃত পরিচয় খুঁজে পাওয়ার এই গল্প বহু মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার এক শক্তিশালী ‘ওয়েক-আপ কল’ হয়ে উঠেছে।
কিন্তু সময়ের হাত ধরে আসা এই তুমুল জনপ্রিয়তাই এখন পরিচালক ইমতিয়াজ আলির জন্য গভীর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি তাঁর আসন্ন ছবি ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’-র প্রচারে গিয়ে তিনি এই বিষয়ে নিজের মানসিক টানাপোড়েনের কথা প্রকাশ করেছেন।
নিরাপদ চাকরি বনাম অনিশ্চিত স্বপ্নের লড়াই
একটি লেখক সম্মেলনে বেশ কয়েকজন তরুণ ইমতিয়াজের মুখোমুখি হয়ে জানান, ‘তামাশা’ সিনেমা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা নিজেদের স্থায়ী ও সুরক্ষিত চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি লেখালিখির জগতে চলে এসেছেন। এই ঘটনা একদিকে পরিচালককে আবেগপ্রবণ করলেও, অন্যদিকে তাঁকে এক গভীর অপরাধবোধ ও দুশ্চিন্তার সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। নিরাপদ পেশা ছেড়ে বহু তরুণ আজ মুম্বইয়ের অনিশ্চিত সৃজনশীল জীবনে পা বাড়াচ্ছেন, যেখানে সাফল্যের কোনো গ্যারান্টি নেই। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন পারিবারিক স্বপ্ন ভেঙে অনিশ্চয়তার দিকে ঝুঁকে পড়ার এই প্রবণতা ইমতিয়াজকে ভাবিয়ে তুলেছে।
সামাজিক প্রভাব ও পরিচালকের দায়বদ্ধতা
সিনেমা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ক্যারিয়ারের এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে নিজের এক ধরনের পরোক্ষ দায়বদ্ধতা অনুভব করছেন পরিচালক। তরুণদের এই সাহসিকতার পর যদি তারা সফল হতে না পারে, তবে তাদের পরিবার, স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের জন্য নিজেকেই দায়ী মনে করবেন তিনি। এই মানসিক দ্বন্দ্বের মাঝেই ইমতিয়াজ স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই তরুণদের জন্য প্রার্থনা করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন যে জীবনকে শুধু অর্থ বা নিরাপত্তার মাপকাঠিতে মাপা যায় না।
সমাজের চাপিয়ে দেওয়া প্রত্যাশা আর নিজের ভেতরের সুপ্ত স্বপ্নের টানাপোড়েনে যারা প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন, ‘তামাশা’ আজ তাঁদেরই ব্যক্তিগত অনুভূতির ভাষা। আর ঠিক এই কারণেই মুক্তির এক দশক পরেও সিনেমাটি সমাজের বাস্তবতায় এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে চলেছে।
