বঙ্গজয়ের পুরস্কার! শমীক যাচ্ছেন দিল্লিতে, রাজ্য বিজেপির রাশ এবার লকেটের হাতে? – এবেলা

বঙ্গজয়ের পুরস্কার! শমীক যাচ্ছেন দিল্লিতে, রাজ্য বিজেপির রাশ এবার লকেটের হাতে? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলায় ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর সরকার গঠনে সফল হয়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রথম সারির মন্ত্রীদের শপথগ্রহণের পর্ব শেষ হতেই এবার বঙ্গ বিজেপির সংগঠনে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে। বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পুরস্কার হিসেবে দলের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্যের ছেড়ে যাওয়া আসনে অর্থাৎ রাজ্য বিজেপির প্রথম মহিলা সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন লড়াকু নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।

আদি-নব্য দ্বন্দ্ব মেটানোর বড় পুরস্কার

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির আসন একধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সেই সময় সুকান্ত মজুমদারকে সরিয়ে দলের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছিল দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতা শমীক ভট্টাচার্যের হাতে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বঙ্গ বিজেপির দীর্ঘদিনের চেনা ব্যাধি ‘আদি-নব্য দ্বন্দ্ব’ মেটাতে উদ্যোগী হন। সুকান্ত মজুমদারের আমলে কোণঠাসা হয়ে পড়া দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসু, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা রীতেশ তিওয়ারির মতো আদি বিজেপি নেতাদের মেইনস্ট্রিমে ফিরিয়ে আনেন শমীক। পাশাপাশি, আলটপকা বা বিতর্কিত মন্তব্য এড়িয়ে যুক্তিপূর্ণ ও পরিশীলিত ভাষায় দলের অবস্থান স্পষ্ট করার সুফল বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনে পেয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই সাংগঠনিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব।

নারী বিদ্বেষের তকমা ঘোচাতে মাস্টারস্ট্রোক

শমীক ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হলে ফাঁকা হওয়া রাজ্য সভাপতির পদে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রায় চূড়ান্ত। বিগত লোকসভা নির্বাচনে হুগলি কেন্দ্রে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হলেও দমে যাননি লকেট। বরং দলের দেওয়া উত্তরাখণ্ডের কো-অবজার্ভারের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালন করেছেন। এর আগে রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হিসেবেও তাঁর লড়াকু ইমেজ নজর কেড়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লকেটকে রাজ্য সভানেত্রী করার পেছনে বিজেপির একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল রয়েছে। বিরোধী দলগুলি বারবার বিজেপিকে ‘নারী বিদ্বেষী’ বলে যে আক্রমণ শানায়, একজন লড়াকু মহিলাকে রাজ্যের শীর্ষ পদে বসিয়ে সেই অভিযোগের কড়া জবাব দিতে চাইছে পদ্ম শিবির। এই রদবদল আগামী দিনে বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিতকে আরও মজবুত করবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *