বড় চমকের অপেক্ষায় বাংলা, ১০ এপ্রিল শাহের হাত ধরে আসছে বিজেপির সঙ্কল্পপত্র

বড় চমকের অপেক্ষায় বাংলা, ১০ এপ্রিল শাহের হাত ধরে আসছে বিজেপির সঙ্কল্পপত্র

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তাপ বাড়িয়ে এবার ময়দানে নামছে বিজেপি। তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করার পর, আগামী শুক্রবার ১০ এপ্রিল বহুল প্রতীক্ষিত ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরেই এই ইশতেহার উন্মোচিত হবে। সরকার গড়তে পারলে আগামী পাঁচ বছর রাজ্যকে কোন দিশায় নিয়ে যেতে চায় গেরুয়া শিবির, তারই নীল নকশা থাকবে এই নথিতে।

বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, এবারের ইশতেহারে সাতটি মূল বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির আমূল সংস্কার থেকে শুরু করে বড় শিল্পে বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে বিশেষ জোর

বিজেপির এবারের সঙ্কল্পপত্রে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে কর্মসংস্থান। রাজ্যে বিনিয়োগ টেনে এনে ‘শিল্প বিপ্লব’ ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বিশেষ করে ভারী শিল্পে গুরুত্ব দিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষি ও শিল্পের সহাবস্থান বজায় রাখা হবে এবং কোনোভাবেই তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। এছাড়া এক বছরের মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফিরিয়ে রাজ্যে কাজের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও থাকছে।

মহিলাদের জন্য বড় আর্থিক ঘোষণা

তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে বিজেপি ইতিমধ্যে বড় ঘোষণা করে রেখেছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া ইঙ্গিত অনুযায়ী, ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে জায়গা পেতে পারে। মূলত মহিলা ভোটারদের সমর্থন সুনিশ্চিত করতেই এই বড় পদক্ষেপ।

সরকারি কর্মচারী ও সামাজিক সুরক্ষা

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সপ্তম পে কমিশনের ভিত্তিতে মহার্ঘ ভাতা (DA) দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা থাকছে বিজেপির সঙ্কল্পপত্রে। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য থাকছে নজরকাড়া পরিকল্পনা। গ্রামীণ উন্নয়নের পাশাপাশি শহরের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতেও বিশেষ বরাদ্দ ও পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হতে পারে।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কৌশল

ইতিমধ্যে ২০ মার্চ তৃণমূল তাদের ১০ দফা প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছে। কংগ্রেস এনেছে ‘৫ গ্যারান্টি’ এবং ৫ এপ্রিল বামেরাও তাদের ইশতেহার জনসমক্ষে এনেছে। এই আবহে অমিত শাহের হাত দিয়ে ইশতেহার প্রকাশ করে বিজেপি একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে ‘সঙ্কল্পপত্র’-এর মাধ্যমে বাংলার মানুষের কাছে বিকল্প উন্নয়নের মডেল পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

একঝলকে

  • ইশতেহার প্রকাশের তারিখ: ১০ এপ্রিল, শুক্রবার।
  • উদ্বোধক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
  • প্রধান লক্ষ্য: শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও আর্থিক সংস্কার।
  • বড় প্রতিশ্রুতি: মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা ও সরকারি কর্মীদের সপ্তম পে কমিশন।
  • শ্রমিক কল্যাণ: পরিযায়ী শ্রমিকদের এক বছরের মধ্যে রাজ্যে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।
  • জমি নীতি: তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ না করে শিল্প ও কৃষির সহাবস্থান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *