বদলে যাচ্ছে টলিপাড়া, এবার কি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে বাংলার বিনোদন জগত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিপাড়ার শিল্পীমহলে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘকাল ধরে বাংলার বিনোদন জগতের ওপর শাসকদলের যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। নতুন সরকার গঠনের পর টলিপাড়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করা এবং শিল্পীদের মর্যাদা রক্ষা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির প্রবীণ নেতা শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক মন্তব্য টলিউডের ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মুক্তির অধিকার ও শিল্পীর মর্যাদা
টলিউডের চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রেক্ষাগৃহে ছবি মুক্তি, সবক্ষেত্রেই এতদিন রাজনৈতিক প্রভাব ছিল একপ্রকার ওপেন সিক্রেট। এমনকি কোন ছবি নন্দনে আগে মুক্তি পাবে, তা নির্ধারণেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠত। এই সংস্কৃতির বদল নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, কে ছবি বানাবে বা কার ছবি আগে মুক্তি পাবে, তা অন্য কেউ ঠিক করতে পারে না। তাঁর মতে, শিল্পীদের মর্যাদা শিল্পীরা নিজেই রক্ষা করতে পারেন। অতীতে বাণিজ্যিক ছবি মুক্তির আগে ফেডারেশনের অনুমতির যে কড়াকড়ি ছিল, নতুন জমানায় সেই রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে টলিপাড়া মুক্ত হবে বলে অনেকেই আশা করছেন।
পরিবর্তনের হাওয়া ও তারকাদের অবস্থান
গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে টলিপাড়ার প্রথম সারির তারকাদের উপস্থিতি নতুন সমীকরণের বার্তা দিচ্ছে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, যিশু সেনগুপ্তের মতো তারকাদের সেখানে দেখা গেছে। এই পরিবর্তন প্রসঙ্গে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, নতুন প্রজন্মের জন্য উন্নয়ন ও ব্যবসা বাড়া প্রয়োজন। মানুষ অনেক আশা নিয়ে ভোট দেয় এবং সেই আশা পূরণ হওয়া উচিত। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা অভিনেতা দেবের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। নতুন বিজেপি সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে দেবের করা পোস্ট এবং রাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে তৈরি হওয়া গুঞ্জন টলিপাড়ার দলবদলের আবহকে আরও উস্কে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই নতুন পরিস্থিতিতে টলিউডের বিনোদন শিল্প অবশেষে দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পেতে পারে।
