বন্ধুর বিয়েতে ছবি ডিলিট করলেন শৌখিন ফটোগ্রাফার! চরম অসৌজন্যের করুণ পরিণতি – এবেলা

বন্ধুর বিয়েতে ছবি ডিলিট করলেন শৌখিন ফটোগ্রাফার! চরম অসৌজন্যের করুণ পরিণতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

খাবার ও বিশ্রামের সামান্য বিরতি না পাওয়ায় বিয়ের আসরেই সব ছবি মুছে ফেলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন এক ফটোগ্রাফার। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থেকে এবং প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়ার পর বরের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার পাওয়ায় তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট-এ সেই ব্যক্তি নিজেই এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যা বর্তমানে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বন্ধুত্বের খাতিরে দায়িত্ব গ্রহণ
পেশাদার ফটোগ্রাফার না হওয়া সত্ত্বেও কেবল বন্ধুত্বের অনুরোধে মাত্র ২৫০ ডলারের বিনিময়ে বিয়ের ছবি তোলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সকাল ১১টা থেকে শুরু করে টানা কয়েক ঘণ্টা কাজ করার পর বিকেলের দিকে তিনি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন। অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত জল ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এমনকি অতিথিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও সেই তালিকায় ফটোগ্রাফারের কোনো নাম ছিল না।

বরের হুমকি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
তীব্র ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে ওই ব্যক্তি মাত্র ২০ মিনিটের বিরতি চাইলে বর (তার বন্ধু) সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনো বিরতি ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে হবে; অন্যথায় তাকে কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হবে না। বরের এই হুমকিতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ বরের সামনেই ক্যামেরার সমস্ত ছবি ডিলিট করে দেন এবং অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান। তিনি জানান, সেই মুহূর্তে টাকার চেয়ে এক গ্লাস জল ও সম্মান তার কাছে বেশি জরুরি ছিল।

এই ঘটনাটি পেশাদার কাজের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিষ্টাচার ও মানবিক আচরণের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে শ্রমের অমর্যাদা এবং মৌলিক চাহিদা অস্বীকার করার কারণেই এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে শুধু যে একটি বিশেষ দিনের স্মৃতি মুছে গেল তা-ই নয়, একটি দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বেও ইতি ঘটল।

এক ঝলকে

  • বিশ্রামের বিরতি না দিয়ে পারিশ্রমিক না দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় বিয়ের সব ছবি মুছে দিলেন ফটোগ্রাফার।
  • দীর্ঘ সাড়ে আট ঘণ্টা কাজ করার পরও ফটোগ্রাফারকে খাবার বা জল দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
  • পেশাদার ফটোগ্রাফার না হয়েও বন্ধুর অনুরোধে নামমাত্র পারিশ্রমিকে রাজি হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি।
  • মানবিক আচরণের অভাব ও শ্রমের অবমূল্যায়নই এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *