বন্ধু দেশ কি এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে? মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ শশী থারুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ওমান উপসাগরে মার্কিন সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং ওয়াশিংটনের নীরবতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে আমেরিকার এই প্রাণঘাতী সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ভারত যেমন কূটনৈতিক স্তরে কড়া অবস্থান নিয়েছে, তেমনই দেশের অভ্যন্তরেও ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নিজেকে ভারতের ‘কৌশলগত অংশীদার’ দাবি করা একটি দেশের এমন আচরণ বিশ্বমঞ্চে দুই দেশের কূটনৈতিক সমীকরণকে এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
টানা তিন হামলা এবং মার্কিন উদাসীনতা
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জুন, যখন ওমান উপসাগরে পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘মারিভেক্স’ নামক একটি বাণিজ্যিক জাহাজে প্রথম হামলা চালায় মার্কিন সেনা। সেই যাত্রায় জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিক অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু এর ঠিক দু’দিন পর, ১০ জুন পালাউয়েরই অপর একটি জাহাজ ‘সেত্তেবেল্লো’-তে আমেরিকার ভয়াবহ মিসাইল হামলায় প্রাণ হারান তিন ভারতীয় নাবিক। ২৮ জন ক্রু মেম্বারের মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয় থাকা এই জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর তিন নাবিক সমুদ্রে তলিয়ে যান এবং পরে তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর বাইরে ‘জলবীর’ নামের গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী আরও একটি জাহাজও মার্কিন আক্রমণের শিকার হয়। পরপর তিনটি জাহাজে এমন আক্রমণ এবং ভারতীয়দের মৃত্যুর পরেও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক শোকপ্রকাশ বা দুঃখপ্রকাশ না আসায় ক্ষোভের আগুন আরও তীব্র হয়েছে।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই ঘটনায় মার্কিন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ নির্দেশ অমান্য করলে কেন সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নিরীহ অসামরিক নাবিকদের হত্যা করা হলো? জাহাজের ইঞ্জিন বা নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করেও তো সেটিকে থামানো যেত। আমেরিকার এই নির্মমতাকে তিনি ভারতের মতো এক বন্ধু রাষ্ট্রের প্রতি চরম অসংবেদনশীলতা বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরে নড়েচড়ে বসেছে নয়াদিল্লি। ইতিমধ্যেই ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই ধরনের প্রাণঘাতী সামরিক পদক্ষেপ কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন সেনার এই অতি-আগ্রাসী মনোভাব এবং ভারতের এই কড়া অবস্থান আগামী দিনে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
