বরের বাবার মুসলিম বেশভূষা, চটে গেলেন কনেপক্ষ! থমকে গেল বিয়ের মন্ত্রোচ্চারণ, ভেস্তে যেতে বসেছিল চার হাত এক হওয়ার মুহূর্ত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরের একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে পাত্রের বাবার পোশাক ও অবয়বকে কেন্দ্র করে এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে যখন বিয়ের লগ্ন ঘনিয়ে আসছিল, তখন পাত্রের বাবা অনিল চৌহান লম্বা দাড়ি এবং পাঠান স্যুট-সাফা পরে মণ্ডপে উপস্থিত হন। এই বেশভূষাকে মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করে ক্ষোভ ফেটে পড়েন কনে পক্ষ। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত হাতাহাতি এবং পুলিশি হস্তক্ষেপ পর্যন্ত গড়ায়।
বিবাদের উৎস ও নেপথ্যের কারণ
ঘটনাটি ঘটে নগীনা এলাকার একটি ব্যাঙ্কুয়েট হলে। পাত্র অঙ্কুর ও পাত্রী সাক্ষী একে অপরকে আগে থেকেই চিনতেন এবং উভয় পরিবারের সম্মতিতে এটি একটি প্রেম বিবাহ ছিল। গোলমালের সূত্রপাত হয় যখন বিয়ের ঠিক আগে কনে পক্ষ জানতে পারে যে পাত্রের বাবা গত ২৫ বছর ধরে ব্যক্তিগতভাবে ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তিনি নিয়মিত মসজিদে যান এবং মুসলিম রীতিনীতি মেনে চলেন, যদিও পরিবারের বাকি সদস্যরা হিন্দু ধর্ম পালন করেন। এই তথ্য এবং তার বাহ্যিক অবয়ব দেখে কনে পক্ষের মনে আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে ভবিষ্যতে পাত্রীর ওপর ধর্ম পরিবর্তনের চাপ আসতে পারে।
পুলিশি মধ্যস্থতা ও পরিণাম
উত্তেজনা বাড়তে থাকায় কনে পক্ষের অনেকেই বিয়ের অনুষ্ঠান ত্যাগ করে চলে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নগীনা থানা পুলিশ। পুলিশ এবং দুই পরিবারের মুরব্বিদের দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। পাত্র স্পষ্ট করেন যে তার বাবার ব্যক্তিগত বিশ্বাস থাকলেও পরিবারের অন্য সদস্যরা হিন্দু ধর্মই পালন করবেন। দীর্ঘ টালবাহানার পর পরদিন অর্থাৎ শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। কোনো পক্ষই শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরে বিয়ের আসরে পাত্রের বাবার পাঠান স্যুট ও লম্বা দাড়ি দেখে কনে পক্ষের তীব্র আপত্তি ও হাঙ্গামা।
- পাত্রের বাবা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও পরিবারের বাকিরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
- ধর্ম পরিবর্তনের আশঙ্কায় কনে পক্ষ বিয়ের অনুষ্ঠান মাঝপথে থামিয়ে দেন এবং অনেকে অনুষ্ঠান ত্যাগ করেন।
- পুলিশের দীর্ঘ মধ্যস্থতা ও পাত্রের আশ্বাসের পর শনিবার সকালে নির্বিঘ্নে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।
