বর্ষার শুরুতেই বিপর্যস্ত বাংলা, উত্তরের নদীতে লাল সংকেত আর দক্ষিণে বজ্রপাতের সতর্কতা! – এবেলা

বর্ষার শুরুতেই বিপর্যস্ত বাংলা, উত্তরের নদীতে লাল সংকেত আর দক্ষিণে বজ্রপাতের সতর্কতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টানা বৃষ্টিতে মুখভার আকাশের। উত্তর থেকে দক্ষিণ— গোটা রাজ্য জুড়েই অব্যাহত রয়েছে বর্ষার দাপট। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২২ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে চলেছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই লাগাতার বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। তবে দক্ষিণবঙ্গে কয়েক দিনের অস্বস্তিকর গরম থেকে মুক্তি মিলেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ৬২.১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ ডিগ্রি কমে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অক্ষরেখা সরে না যাওয়া পর্যন্ত বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় ঝড়-বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। শুক্রবার থেকে পুনরায় বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণে বজ্রপাতের ভ্রুকুটি ও হলুদ সতর্কতা

দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোমবার বেশ কয়েকটি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং নদিয়ায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের বিশেষ সতর্কতা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায়, কারণ এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

উত্তরে ফুঁসছে তিস্তা ও মূর্তি, জাতীয় সড়ক অবরোধ

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক। একটানা বৃষ্টির জেরে জলপাইগুড়ির নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হতে শুরু করেছে, যার ফলে সপ্তাহের শুরুতেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ফুঁসছে তিস্তা নদী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেখলিগঞ্জের তিস্তা অববাহিকার অসংরক্ষিত এলাকায় এবং ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন জলঢাকা নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গজলডোবা ব্যারেজ থেকে দফায় দফায় জল ছাড়ার কারণে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন।

এদিকে, জলপাইগুড়ি জেলার চালসা সংলগ্ন পানঝোরা এলাকায় মূর্তি নদীর ক্রমবর্ধমান ভাঙন রুখতে স্থায়ী ব্যবস্থার দাবিতে সোমাবার সকালে চালসা-নাগরাকাটা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। টানা এক ঘণ্টার এই অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রী ও পর্যটকরা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই নদী ভাঙন রোধে প্রশাসন কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়নি এবং বর্তমান বৃষ্টির কারণে নদীর মূল স্রোত জনবসতির দিকে ধেয়ে আসছে। পরবর্তীতে নাগরাকাটা থানার পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরুর আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *